ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নির্বাচনের আগেই শুরু, ডাকসুর প্রতিবেদনে নিজেদের অর্জন হিসেবে ৩ প্রকল্প

নির্বাচনের আগেই শুরু, ডাকসুর প্রতিবেদনে নিজেদের অর্জন হিসেবে ৩ প্রকল্প
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রায় দুই মাস আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে নিজেদের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে ডাকসু। একই সঙ্গে চীন সরকারের অর্থায়নে ছাত্রীদের জন্য হল নির্মাণ এবং তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (টিকা) সহায়তায় মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের উদ্যোগও নিজেদের অর্জনের তালিকায় রেখেছে তারা।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডাকসুর এক বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ডাকসুর এক বছর, কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন’ উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনের শুরুতেই ২ হাজার ৮৪০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পের ‘ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন’কে ডাকসুর অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর পরিকল্পনা ডাকসু নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই চলমান ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নেওয়া প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্পটি মূলত ২০২০ সালে প্রণীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি ‘মাস্টারপ্ল্যান’-এর প্রথম পর্যায়ের অংশ। ২০২০ সাল থেকেই এর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে গত ৫ আগস্টের পর প্রকল্পটি চূড়ান্ত গতি পায়।

গত বছরের ৩০ জুলাই একনেক প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। অর্থাৎ, ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার অন্তত দুই মাস আগেই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান বহু বছরের পুরোনো। ডাকসু নির্বাচনের আগে থেকেই এসব পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে চলে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা তাদের রাজনৈতিক দাবি। ডাকসু হয়তোবা নিজেদের একটা বিকল্প প্রশাসক বা প্রশাসন হিসেবে ভাবছে।’

ডাকসুর প্রতিবেদনে ‘স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন নিশ্চিতের প্রচেষ্টা’ অংশে ২৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৫০০ আসনের ছাত্রীদের জন্য নতুন হল নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের বিষয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দুই দফা আলোচনার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের তথ্যমতে, আবাসন সংকট নিরসনে একাধিক বিদেশি সংস্থা ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর চীনা দূতাবাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি আসে। এতে নীতিগতভাবে একটি হল নির্মাণে সম্মতির কথা জানানো হয়।

চিঠি পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগটিও ডাকসু নির্বাচনের অন্তত এক বছর আগে শুরু হয়েছিল।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলফেছানী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই চীনা সরকারের আগ্রহে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গা নির্বাচনসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে। এটা আমার কাছে বোধগম্য নয় ডাকসু কেন করছে। হয়তোবা সস্তা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে তারা এটাকে ব্যবহার করতে চায়।’

টিকার সহায়তায় মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন

এ ছাড়া তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (টিকা) সহায়তায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের বিষয়টিও নিজেদের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে ডাকসু।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের সংস্কারসহ উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও টিকার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা স্মারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং টিকার সমন্বয়ক মোহাম্মেদ আলী আরমাআন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এই সমঝোতাটিও ডাকসু নির্বাচনের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত হয়।

তবে ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এম. এম. আল মিনহাজ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টারের প্রজেক্টটাতে নির্বাচনের আগে থেকেই আমরা যুক্ত ছিলাম। তখন কোষাধ্যক্ষ স্যার আমাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে আপত্তি জানালে আমরা বৃহত্তর স্বার্থে বিরত থাকি।’

তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের পর, আমরা এতে যুক্ত হই, তাদের সঙ্গে মিটিং করি, ইনপুট দেই। অন্য দুটি প্রকল্পগুলোতেও আমরা নানাভাবে ইনপুট দেই, প্রকল্প দ্রুতগতিতে যেন হয় সেজন্য আমরা চেষ্টা করেছি।’

এ বিষয়ে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হয়, প্রকল্পের অর্থ দ্রুত ছাড় হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা অর্থ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রায় চার-পাঁচ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, মিটিং করেছি। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে তাগাদা দিয়েছি, এটাই তো ডাকসুর কাজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেও আমরা উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু বিএনপি সরকার আসার পর আবার এ প্রকল্প রিভিউতে পাঠানো হয়েছে।’

ফলে প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ডাকসুর ভূমিকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু নেতাদের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোর বেশির ভাগের প্রক্রিয়া ডাকসু নির্বাচনের আগেই শুরু হয়েছিল। অন্যদিকে ডাকসু নেতাদের দাবি, নির্বাচনের পর তারা এসব প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে বৈঠক, তাগাদা ও বিভিন্ন ধরনের ইনপুট দেওয়ার মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছেন।

ট্যাগ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নির্বাচনের আগেই শুরু, ডাকসুর প্রতিবেদনে নিজেদের অর্জন হিসেবে ৩ প্রকল্প

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রায় দুই মাস আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে নিজেদের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে ডাকসু। একই সঙ্গে চীন সরকারের অর্থায়নে ছাত্রীদের জন্য হল নির্মাণ এবং তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (টিকা) সহায়তায় মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের উদ্যোগও নিজেদের অর্জনের তালিকায় রেখেছে তারা।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডাকসুর এক বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ডাকসুর এক বছর, কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন’ উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনের শুরুতেই ২ হাজার ৮৪০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পের ‘ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন’কে ডাকসুর অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর পরিকল্পনা ডাকসু নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই চলমান ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নেওয়া প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্পটি মূলত ২০২০ সালে প্রণীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি ‘মাস্টারপ্ল্যান’-এর প্রথম পর্যায়ের অংশ। ২০২০ সাল থেকেই এর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে গত ৫ আগস্টের পর প্রকল্পটি চূড়ান্ত গতি পায়।

গত বছরের ৩০ জুলাই একনেক প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। অর্থাৎ, ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার অন্তত দুই মাস আগেই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান বহু বছরের পুরোনো। ডাকসু নির্বাচনের আগে থেকেই এসব পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে চলে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা তাদের রাজনৈতিক দাবি। ডাকসু হয়তোবা নিজেদের একটা বিকল্প প্রশাসক বা প্রশাসন হিসেবে ভাবছে।’

ডাকসুর প্রতিবেদনে ‘স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন নিশ্চিতের প্রচেষ্টা’ অংশে ২৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৫০০ আসনের ছাত্রীদের জন্য নতুন হল নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের বিষয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দুই দফা আলোচনার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের তথ্যমতে, আবাসন সংকট নিরসনে একাধিক বিদেশি সংস্থা ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর চীনা দূতাবাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি আসে। এতে নীতিগতভাবে একটি হল নির্মাণে সম্মতির কথা জানানো হয়।

চিঠি পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগটিও ডাকসু নির্বাচনের অন্তত এক বছর আগে শুরু হয়েছিল।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলফেছানী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই চীনা সরকারের আগ্রহে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গা নির্বাচনসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে। এটা আমার কাছে বোধগম্য নয় ডাকসু কেন করছে। হয়তোবা সস্তা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে তারা এটাকে ব্যবহার করতে চায়।’

টিকার সহায়তায় মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন

এ ছাড়া তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (টিকা) সহায়তায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের বিষয়টিও নিজেদের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে ডাকসু।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের সংস্কারসহ উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও টিকার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা স্মারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং টিকার সমন্বয়ক মোহাম্মেদ আলী আরমাআন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এই সমঝোতাটিও ডাকসু নির্বাচনের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত হয়।

তবে ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এম. এম. আল মিনহাজ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টারের প্রজেক্টটাতে নির্বাচনের আগে থেকেই আমরা যুক্ত ছিলাম। তখন কোষাধ্যক্ষ স্যার আমাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে আপত্তি জানালে আমরা বৃহত্তর স্বার্থে বিরত থাকি।’

তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের পর, আমরা এতে যুক্ত হই, তাদের সঙ্গে মিটিং করি, ইনপুট দেই। অন্য দুটি প্রকল্পগুলোতেও আমরা নানাভাবে ইনপুট দেই, প্রকল্প দ্রুতগতিতে যেন হয় সেজন্য আমরা চেষ্টা করেছি।’

এ বিষয়ে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হয়, প্রকল্পের অর্থ দ্রুত ছাড় হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা অর্থ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রায় চার-পাঁচ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, মিটিং করেছি। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে তাগাদা দিয়েছি, এটাই তো ডাকসুর কাজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেও আমরা উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু বিএনপি সরকার আসার পর আবার এ প্রকল্প রিভিউতে পাঠানো হয়েছে।’

ফলে প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ডাকসুর ভূমিকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু নেতাদের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোর বেশির ভাগের প্রক্রিয়া ডাকসু নির্বাচনের আগেই শুরু হয়েছিল। অন্যদিকে ডাকসু নেতাদের দাবি, নির্বাচনের পর তারা এসব প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে বৈঠক, তাগাদা ও বিভিন্ন ধরনের ইনপুট দেওয়ার মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ