ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ন্যাটোর বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাশিয়া, হুঁশিয়ারি গোয়েন্দাদের

ন্যাটোর বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাশিয়া, হুঁশিয়ারি গোয়েন্দাদের
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়া শিগগিরই বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপের কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দোনাল্দ তুস্ক পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ন্যাটোভুক্ত কোনো এলাকায় হামলা চালিয়ে জোটটির আর্টিকেল ৫-এর দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে পারে মস্কো।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো এই সতর্কবার্তাকে ‘যৌক্তিক এবং তথ্যভিত্তিক’ বলে অভিহিত করে জরুরি বৈঠক ডাকেন।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ইউরোপের তিন গোয়েন্দা প্রধানও রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন।

চেক নিরাপত্তা সংস্থা বিআইএসের প্রধান মিহাল কোউদেলকা বলেন, সীমান্তবর্তী কোনো ন্যাটো এলাকায় সীমিত অনুপ্রবেশও রাশিয়ার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তার ভাষায়, ‘এটা সম্ভব। এর মধ্যে সীমিত অনুপ্রবেশ, ফ্ল্যাগড উসকানি বা ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা থাকতে পারে।’

কোউদেলকা বলেন, এমন পরিস্থিতি ‘বছরের মধ্যে নয়, মাসের মধ্যেই’ তৈরি হতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, ‘এটা যাতে না ঘটে সে জন্য অনেকেই সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।’

তবে বাল্টিক দেশগুলোর কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। লাটভিয়ার ভিডিডি নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান নরমুন্দস মেঝভিয়েতস বলেন, ‘আসন্ন কোনো হামলার লক্ষণ আমরা দেখছি না।’ তবে তিনি মস্কোর কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতির কিছু আলামতের কথাও উল্লেখ করেন।

এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব ইয়োনাতান ভেসেভিওভ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘হামলার আশঙ্কা করার মতো কোনো কারণ থাকলে নিশ্চিত থাকুন, আমরা তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেব। ততক্ষণ পর্যন্ত শান্ত থাকুন।’

অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ন্যাটো এলাকায় সম্ভাব্য রুশ হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।’

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম শীতের দিকে এগিয়ে গেলেও শান্তি প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির লক্ষণ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করলেও সুইডেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান টমাস নিলসন বলেন, রাশিয়া প্রকৃত শান্তি আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে—এমন কোনো লক্ষণ তিনি দেখেননি।

নিলসনের ভাষায়, ‘প্রকৃত আলোচনা নিয়ে মস্কোতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, এমন কোনো লক্ষণ আমি দেখিনি... তারা কেবল আলোচনার নাটক করছে।’

ইউরোপে রাশিয়ার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আরও তীব্র হতে পারে—এ বিষয়ে তিন গোয়েন্দা প্রধানই সতর্ক করেছেন। জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলাকে ‘পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়ার মতো ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন নিলসন।

লাটভিয়ার মেঝভিয়েতস বলেন, রাশিয়া এখন রেলপথ, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তার মতে, এর মাধ্যমে ‘একসঙ্গে দুটো উদ্দেশ্যই পূরণ হয়।’

নিলসনের মতে, মস্কো চায় ন্যাটো যেন আর্টিকেল ৪ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যায়, কিন্তু কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না নেয়।

রাশিয়ার সম্ভাব্য কর্মকাণ্ডের কারণে ইউরোপের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানান কোউদেলকা। তার ভাষায়, ‘প্রতিটি আগুন বা যান্ত্রিক ত্রুটিকেও এখন সম্ভাব্য হামলা হিসেবে তদন্ত করতে হচ্ছে।’

তবে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে আসন্ন হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন দাবিকে মস্কো সরাসরি অস্বীকার করেছে। ফলে সম্ভাব্য রুশ পদক্ষেপ নিয়ে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কতা এবং ক্রেমলিনের অস্বীকৃতির মধ্যে মতপার্থক্যই এখন সামনে রয়েছে।

ট্যাগ : রাশিয়া ন্যাটো ইউক্রেন যুদ্ধ

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ন্যাটোর বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাশিয়া, হুঁশিয়ারি গোয়েন্দাদের

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়া শিগগিরই বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপের কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দোনাল্দ তুস্ক পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ন্যাটোভুক্ত কোনো এলাকায় হামলা চালিয়ে জোটটির আর্টিকেল ৫-এর দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে পারে মস্কো।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো এই সতর্কবার্তাকে ‘যৌক্তিক এবং তথ্যভিত্তিক’ বলে অভিহিত করে জরুরি বৈঠক ডাকেন।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ইউরোপের তিন গোয়েন্দা প্রধানও রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন।

চেক নিরাপত্তা সংস্থা বিআইএসের প্রধান মিহাল কোউদেলকা বলেন, সীমান্তবর্তী কোনো ন্যাটো এলাকায় সীমিত অনুপ্রবেশও রাশিয়ার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তার ভাষায়, ‘এটা সম্ভব। এর মধ্যে সীমিত অনুপ্রবেশ, ফ্ল্যাগড উসকানি বা ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা থাকতে পারে।’

কোউদেলকা বলেন, এমন পরিস্থিতি ‘বছরের মধ্যে নয়, মাসের মধ্যেই’ তৈরি হতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, ‘এটা যাতে না ঘটে সে জন্য অনেকেই সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।’

তবে বাল্টিক দেশগুলোর কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। লাটভিয়ার ভিডিডি নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান নরমুন্দস মেঝভিয়েতস বলেন, ‘আসন্ন কোনো হামলার লক্ষণ আমরা দেখছি না।’ তবে তিনি মস্কোর কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতির কিছু আলামতের কথাও উল্লেখ করেন।

এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব ইয়োনাতান ভেসেভিওভ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘হামলার আশঙ্কা করার মতো কোনো কারণ থাকলে নিশ্চিত থাকুন, আমরা তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেব। ততক্ষণ পর্যন্ত শান্ত থাকুন।’

অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ন্যাটো এলাকায় সম্ভাব্য রুশ হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।’

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম শীতের দিকে এগিয়ে গেলেও শান্তি প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির লক্ষণ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করলেও সুইডেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান টমাস নিলসন বলেন, রাশিয়া প্রকৃত শান্তি আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে—এমন কোনো লক্ষণ তিনি দেখেননি।

নিলসনের ভাষায়, ‘প্রকৃত আলোচনা নিয়ে মস্কোতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, এমন কোনো লক্ষণ আমি দেখিনি... তারা কেবল আলোচনার নাটক করছে।’

ইউরোপে রাশিয়ার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আরও তীব্র হতে পারে—এ বিষয়ে তিন গোয়েন্দা প্রধানই সতর্ক করেছেন। জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলাকে ‘পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়ার মতো ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন নিলসন।

লাটভিয়ার মেঝভিয়েতস বলেন, রাশিয়া এখন রেলপথ, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তার মতে, এর মাধ্যমে ‘একসঙ্গে দুটো উদ্দেশ্যই পূরণ হয়।’

নিলসনের মতে, মস্কো চায় ন্যাটো যেন আর্টিকেল ৪ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যায়, কিন্তু কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না নেয়।

রাশিয়ার সম্ভাব্য কর্মকাণ্ডের কারণে ইউরোপের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানান কোউদেলকা। তার ভাষায়, ‘প্রতিটি আগুন বা যান্ত্রিক ত্রুটিকেও এখন সম্ভাব্য হামলা হিসেবে তদন্ত করতে হচ্ছে।’

তবে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে আসন্ন হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন দাবিকে মস্কো সরাসরি অস্বীকার করেছে। ফলে সম্ভাব্য রুশ পদক্ষেপ নিয়ে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কতা এবং ক্রেমলিনের অস্বীকৃতির মধ্যে মতপার্থক্যই এখন সামনে রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ