ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রিপোর্ট : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রিপোর্ট : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা শেষে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কমিটি দ্রুত কাজ শেষ করতে চায়। এ জন্য প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আলোচনা শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেটির ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী বিল তৈরি করা হবে। পরে তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল প্রতিনিধি পাঠিয়ে বৈঠকে সরাসরি অংশ নিয়েছে। এবি পার্টি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং জাতীয় গণফ্রন্টের নেতারা ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত হতে না পারলেও টেলিফোনে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত বিশেষ কমিটির কার্যক্রমে অংশ নেয়নি বলে জানান তিনি।

সাংবিধানিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শাসনব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও পুলিশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হলেও সরকার তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং অপচয় কমানোকে এর উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এ পরিবর্তন কার্যকর করতে সংবিধানে সংশোধন প্রয়োজন হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে অনেক রাজনৈতিক দলের সম্মতি রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন না; জাতীয় সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব বিষয় নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং যেগুলোর পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া গেছে বলে সরকার মনে করে, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএনপি সংস্কার চায় না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকার অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সময় ও সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধিত হতে পারে। সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাংবিধানিক পরিবর্তন আনার পক্ষে নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত কোনো রাজনৈতিক দল সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

বিশেষ কমিটির প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করা রাজনৈতিক দলগুলোও সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের সময় আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

ট্যাগ : জাতীয় সংসদ সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রিপোর্ট : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা শেষে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কমিটি দ্রুত কাজ শেষ করতে চায়। এ জন্য প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আলোচনা শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেটির ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী বিল তৈরি করা হবে। পরে তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল প্রতিনিধি পাঠিয়ে বৈঠকে সরাসরি অংশ নিয়েছে। এবি পার্টি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং জাতীয় গণফ্রন্টের নেতারা ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত হতে না পারলেও টেলিফোনে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত বিশেষ কমিটির কার্যক্রমে অংশ নেয়নি বলে জানান তিনি।

সাংবিধানিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শাসনব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও পুলিশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হলেও সরকার তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং অপচয় কমানোকে এর উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এ পরিবর্তন কার্যকর করতে সংবিধানে সংশোধন প্রয়োজন হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে অনেক রাজনৈতিক দলের সম্মতি রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন না; জাতীয় সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব বিষয় নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং যেগুলোর পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া গেছে বলে সরকার মনে করে, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএনপি সংস্কার চায় না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকার অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সময় ও সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধিত হতে পারে। সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাংবিধানিক পরিবর্তন আনার পক্ষে নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত কোনো রাজনৈতিক দল সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

বিশেষ কমিটির প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করা রাজনৈতিক দলগুলোও সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের সময় আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ