সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুতি হামলা বাড়তে থাকায় পাকিস্তান-সৌদি আরব-তুরস্কের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরের “সময় এসেছে” বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় ইসলামাবাদ “যেকোনো পর্যায়ে” যেতে প্রস্তুত।
জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তান সৌদি আরব এবং মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, “মক্কা চুক্তি আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।” তিনি আরও বলেন, পবিত্র স্থানগুলো রক্ষায় পাকিস্তানের দায়িত্ব কোনো চুক্তির ওপর নির্ভর করে না।
এর পরদিন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আরও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান কূটনৈতিক ও সরাসরি—দুইভাবেই সৌদি আরবের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনে “যেকোনো পর্যায়ে” যাবে।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কাঠামো প্রকাশিত না হওয়ায় এটি ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়।
সাম্প্রতিক হুতি হামলায় সৌদি আরবের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, রিয়াদ পাকিস্তান, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছে সহায়তা চেয়েছে। তবে এখনো কোনো দেশ প্রকাশ্যে নতুন সামরিক সহায়তার অঙ্গীকার করেনি।
একই সময়ে পাকিস্তান কূটনৈতিক পথও খোলা রেখেছে। খাজা আসিফ জানিয়েছেন, হুতি হামলা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগ ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।
সূত্র: জিও নিউজ