ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা দিতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা গালফ নিউজকে জানিয়েছেন, সৌদি বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো এবং সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তার জন্য এই টাস্কফোর্স কাজ করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি আরবের সঙ্গে শক্ত নিরাপত্তা জোট বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে সেন্টকম।
গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের সংঘাত আবার তীব্র হওয়ার পর হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা বাড়ায়। সাম্প্রতিক অভিযানে তারা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই দুই নৌপথই বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি বাহিনীও ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে হুতিরা দাবি করেছে।
এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুতি হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন হামলার অনুমোদন না দিয়ে গোয়েন্দা ও টার্গেটিং সহায়তা দেওয়ার পথে থাকার সিদ্ধান্ত নেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
শনিবার ট্রাম্প দাবি করেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সময়ে ওমানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে হুতি প্রতিনিধিদের গোপন বৈঠকও হয়েছে বলে পরে রয়টার্স জানায়।
২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসার অভিযোগের মুখে থাকলেও চলমান সংঘাতে সরাসরি ভূমিকার কথা অস্বীকার করেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ