ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

স্বাধীনতার সুযোগ কাজে লাগাও: শিক্ষামন্ত্রী

স্বাধীনতার সুযোগ কাজে লাগাও: শিক্ষামন্ত্রী
ফলো করুন

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্জিত স্বাধীনতা ও সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে এখনই লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি আগামীর বাংলাদেশ গঠনে প্রস্তুত হওয়ার জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত  ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "তোমরা তোমাদের নিজেদের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব বুঝতে হবে, এই যে তোমরা স্বাধীন এই স্বাধীনতাকে কতটুকু তোমরা ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদেরকে আজ জিজ্ঞেস করতে হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মনে হচ্ছে যেন একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতরে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদেরকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে কোন পথে তোমরা যাবে। তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়।"

নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব অন্যের ওপর ছেড়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "ভেবো না তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে কী হতে চাও, কী করতে চাও, কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে; সেই সময়টা আজকে তোমাদের এখনই।"

আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে নবীন শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "তোমরা যে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামীর বাংলাদেশ; অতএব বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেটা তোমাদের চিন্তায় আসতে হবে।"

শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী দক্ষতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আহসানুল হক মিলন বলেন, সম্প্রতি চীনের কারিগরি শিক্ষা ও শিল্প খাতের মডেল দেখতে চার দিনের সফরে গিয়েছিলেন তিনি। দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্প খাতের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে, কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং কে উদ্ভাবক হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবে, সেসব বিষয় শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি ইউনেস্কোর একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নিজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

ছাত্রদলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্রদল গঠনের সময় তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্যের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। পরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, উপহার ও খাবার বিতরণ করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্যের পাশাপাশি সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যান্ড ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্বাধীনতার সুযোগ কাজে লাগাও: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্জিত স্বাধীনতা ও সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে এখনই লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি আগামীর বাংলাদেশ গঠনে প্রস্তুত হওয়ার জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত  ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "তোমরা তোমাদের নিজেদের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব বুঝতে হবে, এই যে তোমরা স্বাধীন এই স্বাধীনতাকে কতটুকু তোমরা ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদেরকে আজ জিজ্ঞেস করতে হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মনে হচ্ছে যেন একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতরে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদেরকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে কোন পথে তোমরা যাবে। তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়।"

নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব অন্যের ওপর ছেড়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "ভেবো না তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে কী হতে চাও, কী করতে চাও, কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে; সেই সময়টা আজকে তোমাদের এখনই।"

আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে নবীন শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "তোমরা যে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামীর বাংলাদেশ; অতএব বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেটা তোমাদের চিন্তায় আসতে হবে।"

শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী দক্ষতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আহসানুল হক মিলন বলেন, সম্প্রতি চীনের কারিগরি শিক্ষা ও শিল্প খাতের মডেল দেখতে চার দিনের সফরে গিয়েছিলেন তিনি। দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্প খাতের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে, কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং কে উদ্ভাবক হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবে, সেসব বিষয় শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি ইউনেস্কোর একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নিজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

ছাত্রদলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্রদল গঠনের সময় তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্যের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। পরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, উপহার ও খাবার বিতরণ করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্যের পাশাপাশি সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যান্ড ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ