‘আজ নবীন, আগামী দিনের নেতৃত্ব’ প্রতিপাদ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ২১০০ নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নিতে দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্ব শুরু হয়। এ পর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। দুপুর ১২টায় তাঁদের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। দুপুর ১টায় নবীন শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ২টায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি। বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। নবীন শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে মেধা, দক্ষতা ও জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু পাঠ্যবিষয় আত্মস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে কারিগরি শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তরুণরা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়েও নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদেরই গড়ে তুলতে হবে। শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকাশের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো কাজে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সব সময় পাশে থাকবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ তাদের হাতেই গড়ে উঠবে। এ সময় তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণের আহ্বান জানান।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দলের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান আমরা দেখতে পাই। কারও মঞ্জিল ভারত, কারও মঞ্জিল পাকিস্তান, আবার কারও মঞ্জিল চীন। কিন্তু আমাদের মঞ্জিল একটাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমার ঠিকানা এই দেশ, এই মাটি।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।’
উপাচার্য আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু বিগত ১৭-১৮ বছর নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি যেসব ক্ষেত্রে অবহেলিত ও বঞ্চিত হয়েছে, সেসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নিয়ে কেউ যেন ‘ক্রেডিট রাজনীতি’ না করেন, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সর্দার ও মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
দিনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় বিকেল ৪টায় অতিথিদের বরণ ও আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে। বিকেল সাড়ে ৪টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যান্ডগুলোর সংগীত পরিবেশন করে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন ও ওয়ারফেজ এবং কণ্ঠশিল্পী জেফার ও মৌসুমী চৌধুরী সংগীত পরিবেশন করেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।