ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বাব আল-মানদেব প্রণালির কৌশলগত পেরিম বা ময়ুন দ্বীপ হুতিদের দখলে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন এ যোগাযোগের কথা প্রকাশ্যে জানাল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে কানসাসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভ্যান্স।
পেরিম দ্বীপে হুতিদের অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন কি না এবং ওয়াশিংটন কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা করছে। পরিস্থিতিকে তিনি দ্রুত পরিবর্তনশীল ও জটিল হিসেবে বর্ণনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান।
ভ্যান্সের বক্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন ইয়েমেনে হুতি বাহিনী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই চলছে। সাম্প্রতিক অভিযানে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনি সরকারি সূত্র জানায়, হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালির ভেতরে অবস্থিত পেরিম দ্বীপ এবং উপকূলীয় ধুবাব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পেরিম এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যা প্রণালিটিকে দুইটি নৌচলাচল চ্যানেলে ভাগ করেছে।
এরপর হুতিরা গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপেও অবস্থান নিয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষ জানিয়েছে। এসব অগ্রগতির ফলে লোহিত সাগর থেকে এডেন উপসাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেবের ওপর গোষ্ঠীটির কৌশলগত প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাব আল-মানদেব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি। এ পথ দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ চলাচল করে। ফলে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে সামরিক নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংকটের গুরুত্ব আরও বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য প্রান্তে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে। হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় জ্বালানি উৎপাদকদের জন্য লোহিত সাগরের বিকল্প রপ্তানি পথের গুরুত্ব বেড়েছে। একই সময়ে বাব আল-মানদেবের কাছে হুতিদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় ওই বিকল্প পথও চাপের মুখে পড়েছে।
হুতিরা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে তেহরান সরাসরি তাদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইয়েমেনের নতুন পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ বাড়ানোর পরিবর্তে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং হুতিদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের পথ ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ভ্যান্স নিজেই সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ