প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী বিরোধী মত দমন এবং সাংবাদিকদের ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সংশোধনী চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পূর্বনির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী না থাকলেও শফিকুল ইসলাম মাসুদ খসড়াটি আলোচনায় তোলেন।
তিনি বলেন, সংশোধনীতে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, কিন্তু ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’ কী—তার সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। অস্পষ্ট সংজ্ঞা রেখে আইন করা হলে তা সাংবাদিক, সাধারণ নাগরিক এবং সরকারবিরোধী মত প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মত দেন তিনি।
মাসুদ আরও বলেন, সংশোধনী পাসের আগে সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তিবিদ ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীরা যেন আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সে বিষয়ে স্পষ্ট সুরক্ষা থাকা উচিত।
অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আইনি বিধান রাখার পক্ষে মত দেন। বৈঠকে তিনি বলেন, গত দুই বছরে রাজনীতিতে গালিগালাজের সংস্কৃতি বেড়েছে এবং এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, কাউকে নিপীড়নের জন্য আইন ব্যবহার করা হবে না। সংসদীয় কমিটির আলোচনাতেও মত দেওয়া হয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে গালিগালাজ ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
একই বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে আরও যুগোপযোগী করা, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ১৩ সেপ্টেম্বর সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে সর্বসাধারণের মতামত আহ্বান করেছে। সরকারি ওয়েবসাইটে সংশোধনী প্রস্তাব প্রকাশ করে তা অধিকতর পর্যালোচনার কথা জানানো হয়েছে।