ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্প্রতি আইপিএস অফিসার বুশারা বানুকে বদলি করেছে। গত রোববার তিনি একটি ভিডিওতে ইসলামি সম্ভাষণ ব্যবহার করলে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়। দুই দিন পর সোমবার রাজ্য সরকার তাকে নতুন পদে বদলি করার আদেশ দেয়।
ভিডিওতে বুশারা বানু আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেনশিয়াল কোচিং অ্যাকাডেমির প্রশংসা করার সময় ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’, ‘জাযাকাল্লাহ’ ফ্রেজগুলো ব্যবহার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড এবং জয়পুর ডায়ালগসহ কিছু সংগঠন তার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ তোলে। তারা প্রশ্ন করে, কেন তিনি জাতীয় স্লোগান ‘বন্দে মাতরম’ অথবা ‘জয় হিন্দ’ ব্যবহার করলেন না।
হিন্দু লিগ্যাল ফান্ডের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার জনসমক্ষে নিরপেক্ষ থাকা উচিত এবং জাতীয় অভিব্যক্তিগুলো ব্যবহার করা উচিত। তারা পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে।
২০২১ ব্যাচের বুশারা বানু পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বদলির মাধ্যমে তাকে স্টেট আর্মড পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডিং অফিসার করা হয়েছে। একই সময়ে আরও দুই কর্মকর্তার বদলিও করা হয়েছে।
বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করেছে। তৃণমূলের এমপি মহুয়া মৈত্র বলেন, কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার যখন ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির প্রমাণ দিতে ব্রিকস সম্মেলনে ‘প্রার্থনা কক্ষ’ তৈরি করছে, তখন রাজ্যের বিজেপি সরকার একজন মুসলিম নারী আইপিএস অফিসারকে ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহারের জন্য সরিয়ে দিচ্ছে। তিনি এটিকে ঘৃণা ছড়ানোর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা