রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে ড্রোন হামলার পর ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, হামলার ফলে শহরের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। মস্কো-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং কিছু এলাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।
তিনি এক বার্তায় বলেন, হামলার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করা এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করা। তবে প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে বলে জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি দাবি করেছেন, অভিযানে কয়েক ডজন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেভাস্তোপোল ছাড়াও বাখচিসারাই, কের্চ এবং আই-পেট্রি অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন বিভিন্ন ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ হামলার পর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে বলে জানা গেছে।
রাশিয়া-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান সের্গেই আকসিওনভ সাময়িকভাবে পেট্রোল বিক্রি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু স্থানে জ্বালানির মজুত থাকলেও তা মূলত জরুরি সেবার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে কিছু এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৩০০টিরও বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, একই সময়ে রাশিয়া তাদের ভূখণ্ডে ১০১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার অধিকাংশই ভূপাতিত করা হয়েছে।
সংঘাতের মধ্যেই মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর ওই এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। যদিও হামলার ফলে পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়ে স্থানীয়দের কিছু অভিযোগ রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: বিবিসি