ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন শেষে বিশ্ববাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খল ও জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সর্বসম্মতিক্রমে যৌথ ঘোষণা দিয়েছে ব্রিকস।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ১১ সদস্য দেশের নেতারা অংশ নেন।
যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে ব্রিকস।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও নিজেদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে জোটটি। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধের আহ্বানের পাশাপাশি জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা আনরোয়ার কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন এবং ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পশ্চিমা নির্ভরতা কমাতে অ-পশ্চিমা আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করা হয়েছে।
সাত বছর পর ভারত সফরে আসা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের পরিপন্থী এবং এতে সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও আন্তর্জাতিক জলপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, নৌ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
তবে সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একই জোটের সদস্য হলেও সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে তাদের অবস্থান এক নয়।
এর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিকসকে ‘আমেরিকা-বিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ফলে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে ভারতকে একদিকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য ধরে রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা