ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শি জিনপিং ‘উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার’, ভেতরে কী আছে?

শি জিনপিং ‘উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার’, ভেতরে কী আছে?
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় বিমানটি সাধারণ কোনো ভিভিআইপি উড়োজাহাজ নয়। এয়ার চায়নার পরিচালিত পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানটি শির প্রধান রাষ্ট্রীয় পরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ‘উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার’ হিসেবেও কাজ করে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি ২০১৪ সালের শেষ দিকে এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বহরে যুক্ত হয়েছিল। তবে ২০১৫ সালের মে মাসে এটিকে বাণিজ্যিক সেবা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে ব্যাপক পরিবর্তন এনে এতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ভিভিআইপি অভ্যন্তরীণ কাঠামো যুক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের শরতে এটি চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় বিমান হিসেবে ব্যবহারে আসে।

এর আগে চীনা নেতারা বোয়িং ৭৪৭-৪০০ মডেলের বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করতেন। কোনো বিদেশ সফরের প্রায় ২০ দিন আগে সেগুলোতে সাময়িকভাবে বিশেষ ভিভিআইপি কেবিন স্থাপন করা হতো। সফর শেষে আবার বিমানগুলোকে বাণিজ্যিক ব্যবহারে ফিরিয়ে দেওয়া হতো।

শির বর্তমান রাষ্ট্রীয় বিমানটির দৈর্ঘ্য ৭৬ দশমিক ৪ মিটার। সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কেজি। চারটি জেনারেল ইলেকট্রিক জিইএনএক্স-২বি৬৭ ইঞ্জিনে চলা বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৯৮২ কিলোমিটার। জ্বালানি না নিয়ে এটি প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে।

তবে বিমানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এর যোগাযোগ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এতে স্যাটেলাইটনির্ভর সামরিক মানের এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে শি বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে চীনের সরকারি ও সামরিক কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।

এতে উন্নত হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের পাল্টা ব্যবস্থাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক সরঞ্জামকে তড়িৎচুম্বকীয় আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইএমপি শিল্ডিং ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

ইএমপি বা তড়িৎচুম্বকীয় পালস অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় শক্তির আকস্মিক বিস্ফোরণ, যা বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম অচল করে দিতে পারে। ইএমপি শিল্ডিংয়ের মাধ্যমে এ ধরনের প্রভাব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হয়।

চীনের এই বিশেষ বিমান আন্তর্জাতিক সফরে মূলত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার ব্যবহার করতে পারেন। অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সাধারণত ভাড়া করা বিমানে বিদেশ সফর করেন।

চীনের বিশেষ প্রেসিডেন্ট বিমান নিয়ে অবশ্য এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবর্তিত একটি বিশেষ বিমান চীনের হাতে আসার আগে তাতে ২৭টি গোপন শ্রবণযন্ত্র বা আড়িপাতার ডিভাইস পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে চীন সরকার কখনো এই দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

ফলে শির এই বিশেষ বিমান শুধু রাষ্ট্রীয় সফরের পরিবহন নয়, চীনের প্রেসিডেন্টের জন্য নিরাপদ যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগ : শি জিনপিং উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শি জিনপিং ‘উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার’, ভেতরে কী আছে?

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় বিমানটি সাধারণ কোনো ভিভিআইপি উড়োজাহাজ নয়। এয়ার চায়নার পরিচালিত পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানটি শির প্রধান রাষ্ট্রীয় পরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ‘উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার’ হিসেবেও কাজ করে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি ২০১৪ সালের শেষ দিকে এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বহরে যুক্ত হয়েছিল। তবে ২০১৫ সালের মে মাসে এটিকে বাণিজ্যিক সেবা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে ব্যাপক পরিবর্তন এনে এতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ভিভিআইপি অভ্যন্তরীণ কাঠামো যুক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের শরতে এটি চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় বিমান হিসেবে ব্যবহারে আসে।

এর আগে চীনা নেতারা বোয়িং ৭৪৭-৪০০ মডেলের বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করতেন। কোনো বিদেশ সফরের প্রায় ২০ দিন আগে সেগুলোতে সাময়িকভাবে বিশেষ ভিভিআইপি কেবিন স্থাপন করা হতো। সফর শেষে আবার বিমানগুলোকে বাণিজ্যিক ব্যবহারে ফিরিয়ে দেওয়া হতো।

শির বর্তমান রাষ্ট্রীয় বিমানটির দৈর্ঘ্য ৭৬ দশমিক ৪ মিটার। সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কেজি। চারটি জেনারেল ইলেকট্রিক জিইএনএক্স-২বি৬৭ ইঞ্জিনে চলা বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৯৮২ কিলোমিটার। জ্বালানি না নিয়ে এটি প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে।

তবে বিমানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এর যোগাযোগ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এতে স্যাটেলাইটনির্ভর সামরিক মানের এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে শি বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে চীনের সরকারি ও সামরিক কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।

এতে উন্নত হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের পাল্টা ব্যবস্থাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক সরঞ্জামকে তড়িৎচুম্বকীয় আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইএমপি শিল্ডিং ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

ইএমপি বা তড়িৎচুম্বকীয় পালস অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় শক্তির আকস্মিক বিস্ফোরণ, যা বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম অচল করে দিতে পারে। ইএমপি শিল্ডিংয়ের মাধ্যমে এ ধরনের প্রভাব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হয়।

চীনের এই বিশেষ বিমান আন্তর্জাতিক সফরে মূলত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার ব্যবহার করতে পারেন। অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সাধারণত ভাড়া করা বিমানে বিদেশ সফর করেন।

চীনের বিশেষ প্রেসিডেন্ট বিমান নিয়ে অবশ্য এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবর্তিত একটি বিশেষ বিমান চীনের হাতে আসার আগে তাতে ২৭টি গোপন শ্রবণযন্ত্র বা আড়িপাতার ডিভাইস পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে চীন সরকার কখনো এই দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

ফলে শির এই বিশেষ বিমান শুধু রাষ্ট্রীয় সফরের পরিবহন নয়, চীনের প্রেসিডেন্টের জন্য নিরাপদ যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়।

সূত্র: এনডিটিভি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ