ইয়েমেনের কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকা দখলের পর লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে এ সংঘাতে সরাসরি না জড়ানোর অনুরোধ করেছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না এবং তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানও চায় না।
ট্রাম্প জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। এর আগে সৌদি যুবরাজ হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে হুতিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা ও দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। এর মধ্যে হানিশ দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দ্বীপ এবং কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা রয়েছে। এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে গেলে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।
বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
হুতিদের অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছে সৌদি আরব। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে তেল পরিবহনে চাপ তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবকে বিকল্প সমুদ্রপথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। এই পথও ঝুঁকির মুখে পড়লে সৌদি তেল রপ্তানিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ। তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর হুতিদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে, হুতিদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কি কূটনৈতিক পথেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে?