সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য ও মানহানির অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।
কুমিল্লার জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামের এক ব্যক্তি গত শনিবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় মামলাটি করেন। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন মুফতি ফয়জুল করীম। এতে সংসদ সদস্যের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।
অভিযোগপত্রে বাদী নিজেকে কুমিল্লা মহানগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান জানিয়েছেন, খোকন তালুকদার নামে মহানগর যুবদলের কোনো ইউনিটে কেউ নেই।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর আওতায় মামলাটি করা হয়েছে। এটি তদন্তাধীন রয়েছে।
মামলায় মুফতি ফয়জুল করীম ছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর এলাকার কাদের মিয়াজীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ জুন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে বিদ্রুপমূলক মন্তব্য করেন মুফতি ফয়জুল করীম। তার বক্তব্য পরে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি ফেসবুক আইডি থেকে সংসদ সদস্যের ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এসব বক্তব্য ও পোস্টকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক দাবি করে মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়ে জানতে বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি মামলার বিষয়টি আগে জানতেন না। তার ভাষ্য, মামলা করলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবেই করতেন। তবে মুফতি ফয়জুল করীমের বক্তব্য ভালো ছিল না উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি সংসদে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন।
কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান বলেন, খোকন তালুকদার নামে মহানগর যুবদলের কোনো ইউনিটে কেউ নেই। তার দাবি, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি আগে যুবলীগের কর্মী ছিলেন, তবে সেখানে তার কোনো পদ-পদবি ছিল না।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন মামলাটিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মুফতি ফয়জুল করীম একজন নির্যাতিত নেতা। তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।