ঢাকা    শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রত্যাহারে দুদক কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রত্যাহারে দুদক কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এ নোটিশ পাঠান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে এনসিপি।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের একজন কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে তাকে ঘিরে জনপরিসরে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে সাংবাদিকদের দুদক বিটের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম জানান, তার আগের বক্তব্যটি ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সংবাদ প্রচারের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নেয় বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টিও নোটিশে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি হয় ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ, তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ওই পদোন্নতির ঘটনা ঘটে।

আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথভাবে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার জন্যও তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ : এনসিপি দুদক আসিফ মাহমুদ

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রত্যাহারে দুদক কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এ নোটিশ পাঠান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে এনসিপি।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের একজন কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে তাকে ঘিরে জনপরিসরে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে সাংবাদিকদের দুদক বিটের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম জানান, তার আগের বক্তব্যটি ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সংবাদ প্রচারের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নেয় বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টিও নোটিশে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি হয় ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ, তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ওই পদোন্নতির ঘটনা ঘটে।

আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথভাবে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার জন্যও তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ