ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নারী-শিশু উন্নয়ন ও ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নে নরওয়ের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

নারী-শিশু উন্নয়ন ও ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নে নরওয়ের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সচিবালয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। মঙ্গলবার মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় নারী ও শিশুর উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

সাক্ষাৎকালে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা, শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং শিশুশ্রম বন্ধের বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

এ ছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তৈরি পোশাক খাত, কেয়ার গিভিং, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, কার্বন ট্রেডিং, উত্তরাধিকার আইন এবং ডিএনএ ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী নরওয়েকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে নরওয়ের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার নারী ও শিশুসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে গ্রামীণ নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সিড মানি দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সেবার পরিধি বাড়ানোর কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে গত দুই বছরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি নারী শিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ওই এলাকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে এ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যের জন্য একটি করে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডকে সরকারের ব্যয় হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ পরিবারের পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা, ছোট ব্যবসা এবং সঞ্চয়ের মতো কাজে ব্যয় করার সুযোগ থাকবে।

এ সময় দক্ষ কেয়ার গিভারের আন্তর্জাতিক চাহিদার বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বাংলাদেশে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি এবং বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে নরওয়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নরওয়ে ও ইউরোপের অন্যান্য বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরিতেও দেশটির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

বৈঠকের এক পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাবের আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহায়তা চান মন্ত্রী। এ বিষয়ে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

ট্যাগ : বাংলাদেশ নরওয়ে

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নারী-শিশু উন্নয়ন ও ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নে নরওয়ের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সচিবালয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। মঙ্গলবার মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় নারী ও শিশুর উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

সাক্ষাৎকালে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা, শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং শিশুশ্রম বন্ধের বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

এ ছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তৈরি পোশাক খাত, কেয়ার গিভিং, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, কার্বন ট্রেডিং, উত্তরাধিকার আইন এবং ডিএনএ ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী নরওয়েকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে নরওয়ের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার নারী ও শিশুসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে গ্রামীণ নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সিড মানি দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সেবার পরিধি বাড়ানোর কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে গত দুই বছরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি নারী শিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ওই এলাকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে এ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যের জন্য একটি করে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডকে সরকারের ব্যয় হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ পরিবারের পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা, ছোট ব্যবসা এবং সঞ্চয়ের মতো কাজে ব্যয় করার সুযোগ থাকবে।

এ সময় দক্ষ কেয়ার গিভারের আন্তর্জাতিক চাহিদার বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বাংলাদেশে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি এবং বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে নরওয়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নরওয়ে ও ইউরোপের অন্যান্য বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরিতেও দেশটির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

বৈঠকের এক পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাবের আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহায়তা চান মন্ত্রী। এ বিষয়ে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ