সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইনকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী দাবি করে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, আইনটি প্রত্যাহার করা না হলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও ব্যাপকভাবে গড়ে তোলা হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইন পাসের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগরে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামে সম্পত্তির উত্তরাধিকার ও বণ্টনের বিষয়গুলো নির্দিষ্টভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। তাই এ ধরনের বিষয়ে আইন প্রণয়নের আগে দেশের আলেম, ওলামা ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার দাবি, সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইন নিয়ে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, ইসলামপন্থি বিভিন্ন মানুষেরও আপত্তি রয়েছে। তিনি আইনটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়া বোর্ডসহ দেশি-বিদেশি ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মতামত নিয়ে আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন না করার এবং মদিনা সনদের আলোকে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সংসদে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এ ধরনের আইন পাসের মাধ্যমে সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে সরকারকে ভবিষ্যতে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ইসলামি বিধান নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। তার ভাষ্য, হেবা ও ওসিয়তসংক্রান্ত বিধান ধর্মীয়ভাবে নির্ধারিত বিষয়। সংসদে এসব বিধান ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এতে দেশের বিপুলসংখ্যক মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পিতা-মাতার ভরণপোষণ ও অধিকার নিশ্চিতে ২০১৩ সালে প্রণীত আইনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ওই আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে পিতা-মাতার অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।