বিশ্বকাপ মানেই সাধারণত দলের গল্প। কোনো দেশের স্বপ্নযাত্রা, কারও বিদায়বেদনা, আবার কারও ফুটবল ইতিহাস নতুন করে লেখার উপলক্ষ। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুটা যেন দলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি কয়েকজন মহাতারকার ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
এই লড়াইয়ের কেন্দ্রে আছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। চারজনের খেলার ধরন আলাদা, বয়স ও অভিজ্ঞতার ব্যবধানও বড়। কিন্তু গোলের সামনে তাদের লক্ষ্য একটাই, প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নেওয়া।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা পাঁচে নিয়ে গেছেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা প্রথম পাঁচ গোলই এসেছে তার পা থেকে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলদাতাদের তালিকায়ও তিনি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, মেসি এখন পাঁচ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে।
মেসির ঠিক পেছনে আছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। দুজনের গোলসংখ্যা চারটি করে। এমবাপ্পে এরই মধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত রেকর্ডের কাছাকাছি থাকলেও এমবাপ্পে দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অন্যদিকে অভিষেক বিশ্বকাপেই আলোচনার বড় নাম হয়ে উঠেছেন হালান্ড। নরওয়ের জার্সিতে তার গোলের ধারাবাহিকতা আগে থেকেই আলোচিত ছিল। এবার বিশ্বকাপ মঞ্চেও তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, বড় আসরে গোল করার চাপ সামলাতে তিনি প্রস্তুত। গোলমুখে তার উপস্থিতি, পজিশন নেওয়া এবং নিখুঁত ফিনিশিং তাকে গোল্ডেন বুটের অন্যতম শক্ত দাবিদার বানিয়েছে।
এই দৌড়ে নতুন করে আলোচনায় ফিরেছেন রোনালদোও। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের ৫-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন তিনি। ফিফার ম্যাচ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ম্যাচে রোনালদোর দুই গোল পর্তুগালকে বড় জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক বিশ্বকাপ রেকর্ডও গড়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে রোনালদো প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। বয়স ও সমালোচনা পেরিয়ে বড় মঞ্চে আবারও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা।
তবে গোল্ডেন বুটের এই লড়াই শুধু সংখ্যার হিসাব নয়। মেসি খেলাকে সাজান, সুযোগ তৈরি করেন এবং শেষ মুহূর্তে নিজেই ব্যবধান গড়ে দেন। এমবাপ্পে গতি, শক্তি ও সরাসরি আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন। হালান্ড গোলের জন্য জায়গা খুঁজে নেওয়ার এক অসাধারণ ক্ষমতা দেখান। আর রোনালদো প্রমাণ করে চলেছেন, অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা এখনও বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ শেষে অন্তত তিনজন ফুটবলারের গোল চার বা তার বেশি। স্কাই স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালের পর বিশ্বকাপে এমন ঘটনা এবারই প্রথমবার দেখা গেল। এতে বোঝা যাচ্ছে, গোল্ডেন বুটের দৌড় এবার শুরু থেকেই অস্বাভাবিকভাবে জমে উঠেছে।
জার্মানির ডেনিজ আন্দাভও তিন গোল করে দৌড়ে রয়েছেন। সামনে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ, এরপর নকআউটের চাপ। তাই এখনকার ব্যবধান খুব বেশি নিরাপদ নয়। একটি বড় ম্যাচই এই তালিকার চেহারা বদলে দিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট কার হাতে উঠবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে মেসি, এমবাপ্পে, হালান্ড ও রোনালদোর এই লড়াই ২০২৬ বিশ্বকাপকে শুরু থেকেই আলাদা উত্তেজনা দিয়েছে। দলীয় স্বপ্নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়তো এবারের আসরের সবচেয়ে আলোচিত গল্প হয়ে থাকবে।
সূত্র: স্কাই স্পোর্টস, রয়টার্স, ফিফা