ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আশুরা : ইতিহাস, ফজিলত ও শিক্ষার এক মহিমান্বিত দিন

আশুরা : ইতিহাস, ফজিলত ও শিক্ষার এক মহিমান্বিত দিন
সংগৃহীত
ফলো করুন

আশুরা ইসলামের ইতিহাসে এক মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহাররমের ১০ তারিখকে বলা হয় ‘ইয়াওমে আশুরা’। এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক নয়; বরং আল্লাহর সাহায্য, সত্যের বিজয়, জুলুমের পরাজয় এবং ঈমানদারদের জন্য শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ।

‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘দশ’। সে কারণেই মুহাররমের দশম দিনকে আশুরা বলা হয়। অনেকের ধারণা, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার কারণেই আশুরার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সহিহ হাদিসের আলোকে জানা যায়, কারবালার ঘটনার বহু আগেই এই দিনটি ছিল ফজিলতপূর্ণ ও সম্মানিত। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে মানুষ আশুরার রোজা রাখত এবং কাবা শরিফে এ দিন গিলাফ পরানো হতো। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫৯২)

আশুরার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা হলো—আল্লাহ তাআলা এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “অতঃপর আমি মূসা ও তাঁর সঙ্গীদের সবাইকে রক্ষা করলাম। তারপর অপর দলকে ডুবিয়ে দিলাম।” (সুরা আশ-শুআরা: ৬৫-৬৬)

ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা আশুরার রোজা রাখছে। কারণ জানতে চাইলে তারা বলল, এ দিন আল্লাহ মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “মুসার সঙ্গে তোমাদের চেয়ে আমাদের সম্পর্ক বেশি।” এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৪৩)

আশুরার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের সগিরা গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) চেয়েছিলেন মুসলমানরা যেন ইহুদি-খ্রিস্টানদের অনুকরণ না করে। তাই তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে, পরবর্তী বছর বেঁচে থাকলে তিনি নবম তারিখও রোজা রাখবেন। কিন্তু সে বছরের আগেই তিনি ইন্তিকাল করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৩৪) এ কারণে ইসলামি চিন্তাবিদরা ৯ ও ১০ মুহাররম অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম রোজা রাখাকে উত্তম বলেছেন।

সাহাবায়ে কেরামও আশুরার রোজাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। হজরত রুবাইয়্যি‘ বিনতে মুআউয়িজ (রা.) বলেন, তারা নিজেরাও রোজা রাখতেন এবং শিশুদেরও রোজায় অভ্যস্ত করতেন। শিশুরা ক্ষুধার কারণে কাঁদলে খেলনা দিয়ে তাদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে ইফতার পর্যন্ত সময় পার করাতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৬০)

৬১ হিজরির ১০ মুহাররমে কারবালার প্রান্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত হুসাইন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। এটি ইসলামের ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা মুসলিম উম্মাহ গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তবে ইসলামী সূত্র অনুযায়ী, হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত আশুরার মর্যাদা সৃষ্টি করেনি; বরং আশুরা এর আগ থেকেই ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

আশুরাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বর্ণনা ও প্রচলিত রেওয়াজ সমাজে দেখা যায়। তবে একজন মুসলমানের উচিত কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে এ দিনের প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা। আশুরা কোনো শোকের দিন নয়, আবার শুধু আনন্দের দিনও নয়; এটি ইবাদত, আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের এক বিশেষ সুযোগ।

তাই ভিত্তিহীন কাহিনি, অতিরঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস থেকে দূরে থেকে সহিহ সুন্নাহ অনুসরণ করা, ৯ ও ১০ মুহাররম অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম রোজা রাখা এবং এ দিনের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত প্রত্যেক মুসলমানের করণীয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আশুরার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগ : ইসলাম পবিত্র কোরআন আশুরা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
শনিবার৭
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫০ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৮ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪১ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৮ বিকাল
  • এশা৬:৩৫ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৭ ভোরইফতার ৫:১৮ বিকাল

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


আশুরা : ইতিহাস, ফজিলত ও শিক্ষার এক মহিমান্বিত দিন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

আশুরা ইসলামের ইতিহাসে এক মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহাররমের ১০ তারিখকে বলা হয় ‘ইয়াওমে আশুরা’। এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক নয়; বরং আল্লাহর সাহায্য, সত্যের বিজয়, জুলুমের পরাজয় এবং ঈমানদারদের জন্য শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ।

‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘দশ’। সে কারণেই মুহাররমের দশম দিনকে আশুরা বলা হয়। অনেকের ধারণা, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার কারণেই আশুরার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সহিহ হাদিসের আলোকে জানা যায়, কারবালার ঘটনার বহু আগেই এই দিনটি ছিল ফজিলতপূর্ণ ও সম্মানিত। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে মানুষ আশুরার রোজা রাখত এবং কাবা শরিফে এ দিন গিলাফ পরানো হতো। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫৯২)

আশুরার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা হলো—আল্লাহ তাআলা এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “অতঃপর আমি মূসা ও তাঁর সঙ্গীদের সবাইকে রক্ষা করলাম। তারপর অপর দলকে ডুবিয়ে দিলাম।” (সুরা আশ-শুআরা: ৬৫-৬৬)

ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা আশুরার রোজা রাখছে। কারণ জানতে চাইলে তারা বলল, এ দিন আল্লাহ মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “মুসার সঙ্গে তোমাদের চেয়ে আমাদের সম্পর্ক বেশি।” এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৪৩)

আশুরার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের সগিরা গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) চেয়েছিলেন মুসলমানরা যেন ইহুদি-খ্রিস্টানদের অনুকরণ না করে। তাই তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে, পরবর্তী বছর বেঁচে থাকলে তিনি নবম তারিখও রোজা রাখবেন। কিন্তু সে বছরের আগেই তিনি ইন্তিকাল করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৩৪) এ কারণে ইসলামি চিন্তাবিদরা ৯ ও ১০ মুহাররম অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম রোজা রাখাকে উত্তম বলেছেন।

সাহাবায়ে কেরামও আশুরার রোজাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। হজরত রুবাইয়্যি‘ বিনতে মুআউয়িজ (রা.) বলেন, তারা নিজেরাও রোজা রাখতেন এবং শিশুদেরও রোজায় অভ্যস্ত করতেন। শিশুরা ক্ষুধার কারণে কাঁদলে খেলনা দিয়ে তাদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে ইফতার পর্যন্ত সময় পার করাতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৬০)

৬১ হিজরির ১০ মুহাররমে কারবালার প্রান্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত হুসাইন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। এটি ইসলামের ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা মুসলিম উম্মাহ গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তবে ইসলামী সূত্র অনুযায়ী, হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত আশুরার মর্যাদা সৃষ্টি করেনি; বরং আশুরা এর আগ থেকেই ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

আশুরাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বর্ণনা ও প্রচলিত রেওয়াজ সমাজে দেখা যায়। তবে একজন মুসলমানের উচিত কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে এ দিনের প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা। আশুরা কোনো শোকের দিন নয়, আবার শুধু আনন্দের দিনও নয়; এটি ইবাদত, আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের এক বিশেষ সুযোগ।

তাই ভিত্তিহীন কাহিনি, অতিরঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস থেকে দূরে থেকে সহিহ সুন্নাহ অনুসরণ করা, ৯ ও ১০ মুহাররম অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম রোজা রাখা এবং এ দিনের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত প্রত্যেক মুসলমানের করণীয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আশুরার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ