হরমুজ প্রণালিতে কয়েক মাস ধরে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ধাপে ধাপে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় অনেক নাবিক শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করলে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে শত শত জাহাজ আটকে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আটকে থাকা নাবিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে স্বাভাবিকতা ফিরে আসা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।