বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে তাদের কাছে একটি পরিকল্পনা চেয়েছিলেন এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা দেওয়াও হয়েছিল। তবে এরপর সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চলাকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এখন বিরোধী দলগুলোর কাছে সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পনা চাইছে। তার ভাষ্য, সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা যদি ব্যর্থ হয়ে থাকে, তাহলে তা স্বীকার করে বিরোধীদের সহযোগিতা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে এবং তারা দায়িত্ব পেলে দেশের সংকট মোকাবিলায় কাজ করবেন।
বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, একসময় প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছে শুধু বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি পরিকল্পনা চেয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা জমা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। পরিকল্পনা দেওয়ার পর বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশা করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পথসভায় গাজীপুরের তরুণ সিফাত আবদুল্লাহর গ্রেপ্তার নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে সিফাতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জামায়াত আমিরের দাবি, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সিফাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিফাতকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।
এর আগে শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। কর্মসূচিটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা।