ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে পুড়েছে কোটি কোটি বই

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে পুড়েছে কোটি কোটি বই
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে কিয়েভের একটি ছাপাখানায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপুলসংখ্যক বই ও পাঠ্যপুস্তক ধ্বংস হয়েছে। দেশটির প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক কয়েক দফা হামলায় ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বই নষ্ট হয়েছে। এতে যুদ্ধের পাশাপাশি দেশটির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থিত ওই ছাপাখানায় নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবই মুদ্রণের প্রস্তুতি চলছিল। হামলার সময় সেখানে প্রায় ১৩ লাখ বই ছাপার প্রক্রিয়ায় ছিল, যা স্কুল পর্যায়ের জন্য দেশটিতে মুদ্রিত মোট বইয়ের প্রায় ১০ শতাংশ। রাতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কারখানাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ইংরেজি পাঠ্যবইয়ের পোড়া পাতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাতাটিতে এক শিশুর পরিচয় ও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত তার দাদির কথা লেখা ছিল। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে পড়ে থাকা বইয়ের পাতাটি ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

কনভি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক পরিচালক ভিক্টোরিয়া হাইদাইয়ের অভিযোগ, প্রকাশনা খাতের ওপর হামলা পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত দুই মাসে কয়েকটি বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও সরবরাহকেন্দ্রও হামলার শিকার হয়েছে। তাঁর মতে, একটি দেশের পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই মুদ্রণ ও প্রকাশনা অবকাঠামোকে টার্গেট করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের ৩৫টির বেশি প্রকাশনা ও মুদ্রণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। চলতি বছরে দেশটিতে ছাপা বইয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিভিন্ন হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে কিয়েভের পোচাইনা পুরোনো বইয়ের বাজারেও। সেখানে আগুনে শত শত দোকান ও বিপুলসংখ্যক পুরোনো বই পুড়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপে ২৮ বছর বয়সী বইবিষয়ক ব্লগার লিলিয়া ভেলিকাকে একটি ভেজা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বই হাতে উদ্ধারযোগ্য কিছু খুঁজতে দেখা যায়। তাঁর ভাষায়, বই মানুষের অস্তিত্ব ও স্মৃতিকে ধরে রাখে; সেগুলো হারানো মানে হৃদয়ের একটি অংশ হারিয়ে ফেলা।

শুধু বই নয়, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাদুঘর, শিল্পকলা প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র স্টুডিও, গ্রন্থাগার ও অপেরা ভবনসহ বহু স্থাপনায় হামলার প্রভাব পড়েছে। কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মঠের ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদও একটি ড্রোন হামলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি পুনর্নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা কমপ্লেক্স ১৯৯০ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়। পরে ২০২৩ সালে এটি ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেজনা বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর হামলাকে যুদ্ধের অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, রুশ হামলায় দেশটির ১ হাজার ৯০০টির বেশি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং দুই হাজারের বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেও সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় বই, শিল্পকর্ম ও সাহিত্যকর্ম ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণের উদ্যোগ জোরদার করছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

তবে ইউক্রেনের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের দায় ইউক্রেন সরকারের ওপর চাপিয়েছে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের কিছু সাংস্কৃতিক স্থাপনা সামরিক অবকাঠামো আড়াল করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ রাশিয়া অস্বীকার করে আসছে।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে পুড়েছে কোটি কোটি বই

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে কিয়েভের একটি ছাপাখানায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপুলসংখ্যক বই ও পাঠ্যপুস্তক ধ্বংস হয়েছে। দেশটির প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক কয়েক দফা হামলায় ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বই নষ্ট হয়েছে। এতে যুদ্ধের পাশাপাশি দেশটির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থিত ওই ছাপাখানায় নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবই মুদ্রণের প্রস্তুতি চলছিল। হামলার সময় সেখানে প্রায় ১৩ লাখ বই ছাপার প্রক্রিয়ায় ছিল, যা স্কুল পর্যায়ের জন্য দেশটিতে মুদ্রিত মোট বইয়ের প্রায় ১০ শতাংশ। রাতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কারখানাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ইংরেজি পাঠ্যবইয়ের পোড়া পাতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাতাটিতে এক শিশুর পরিচয় ও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত তার দাদির কথা লেখা ছিল। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে পড়ে থাকা বইয়ের পাতাটি ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

কনভি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক পরিচালক ভিক্টোরিয়া হাইদাইয়ের অভিযোগ, প্রকাশনা খাতের ওপর হামলা পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত দুই মাসে কয়েকটি বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও সরবরাহকেন্দ্রও হামলার শিকার হয়েছে। তাঁর মতে, একটি দেশের পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই মুদ্রণ ও প্রকাশনা অবকাঠামোকে টার্গেট করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের ৩৫টির বেশি প্রকাশনা ও মুদ্রণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। চলতি বছরে দেশটিতে ছাপা বইয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিভিন্ন হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে কিয়েভের পোচাইনা পুরোনো বইয়ের বাজারেও। সেখানে আগুনে শত শত দোকান ও বিপুলসংখ্যক পুরোনো বই পুড়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপে ২৮ বছর বয়সী বইবিষয়ক ব্লগার লিলিয়া ভেলিকাকে একটি ভেজা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বই হাতে উদ্ধারযোগ্য কিছু খুঁজতে দেখা যায়। তাঁর ভাষায়, বই মানুষের অস্তিত্ব ও স্মৃতিকে ধরে রাখে; সেগুলো হারানো মানে হৃদয়ের একটি অংশ হারিয়ে ফেলা।

শুধু বই নয়, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাদুঘর, শিল্পকলা প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র স্টুডিও, গ্রন্থাগার ও অপেরা ভবনসহ বহু স্থাপনায় হামলার প্রভাব পড়েছে। কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মঠের ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদও একটি ড্রোন হামলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি পুনর্নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা কমপ্লেক্স ১৯৯০ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়। পরে ২০২৩ সালে এটি ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেজনা বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর হামলাকে যুদ্ধের অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, রুশ হামলায় দেশটির ১ হাজার ৯০০টির বেশি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং দুই হাজারের বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেও সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় বই, শিল্পকর্ম ও সাহিত্যকর্ম ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণের উদ্যোগ জোরদার করছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

তবে ইউক্রেনের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের দায় ইউক্রেন সরকারের ওপর চাপিয়েছে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের কিছু সাংস্কৃতিক স্থাপনা সামরিক অবকাঠামো আড়াল করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ রাশিয়া অস্বীকার করে আসছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ