ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের জীবনযাপন ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের জবাবে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। কারাগারের সুযোগ-সুবিধা ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার নীতির জন্য নিজেকেই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বেন-গভির। ভিডিওতে তাকে উত্তর ইসরায়েলের ডেমন কারাগারে আটক কয়েকজন ফিলিস্তিনি নারী বন্দির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
ভিডিওতে এক বন্দি জানান, তাদের কারাগারে পর্যাপ্ত গোসলের ব্যবস্থা নেই, সেলে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না এবং চিকিৎসাসেবাও পর্যাপ্ত নয়। তিনি দাবি করেন, টানা তিন দিন ধরে তারা গোসল করতে পারেননি এবং পরিষ্কার পোশাকও পাচ্ছেন না।
নারী বন্দিদের বিশেষ প্রয়োজনের বিষয়েও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর জবাবে বেন-গভির বলেন, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দিদের আগের মতো সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। তার ভাষায়, বন্দিদের জন্য সুবিধা ‘ন্যূনতমেরও ন্যূনতম’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে এবং এই নীতির জন্য তিনি নিজেই দায়ী।
তিনি গাজায় আটক থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিস্থিতির সঙ্গে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অবস্থা তুলনা করে বলেন, জিম্মিরা আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন। বন্দিদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মত দেন তিনি।
ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও বন্দিদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন বেন-গভির। কারাগারে কঠোর নীতি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দিদের জন্য শুধু আইন অনুযায়ী ন্যূনতম সুবিধাই নিশ্চিত করা হবে।
ভিডিও প্রকাশের পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বন্দিবিষয়ক কমিশন বেন-গভিরের আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি তার কর্মকাণ্ডকে অপমানজনক ও উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবও নারী বন্দিদের ভিডিও ধারণ করে প্রকাশের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, বন্দিদের অনুমতি ছাড়া এভাবে ভিডিও প্রকাশ তাদের মানবিক মর্যাদার প্রতি আঘাত।
বেন-গভির এর আগেও ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে এক নারী বন্দি খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ করলে তিনি বলেন, কারাগার কোনো হোটেল নয়।
২০২২ সালের শেষ দিকে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কারাগারের বিভিন্ন সুবিধা সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন বেন-গভির।
ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এর আগে দেশটির কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর দুর্ব্যবহার ও অমানবিক পরিস্থিতির অভিযোগ তুলেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তাজনিত বন্দিদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সর্বশেষ ভিডিওটি প্রকাশের পর ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং বন্দিদের অধিকার ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ