মালয়েশিয়ার ৬৯তম জাতীয় দিবস ‘হারি মেরদেকা’ উদযাপিত হচ্ছে ব্যাপক উৎসাহ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে। রাজধানী অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র পুত্রজায়ায় সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকেই জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হাজারো মানুষ জড়ো হন।
মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় দাতারান পুত্রজায়ায়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে সেখানে পৌঁছান মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম এবং রানি রাজা জারিথ সোফিয়া। তাদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। এ সময় যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও উপস্থিত ছিলেন।
রাজা ও রানির আগমনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তূর্যধ্বনির পর সম্মান রক্ষী বাহিনীর ব্যান্ড মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত ‘নেগারাকু’ পরিবেশন করে।
এরপর আকাশে বিশেষ পতাকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচটি হেলিকপ্টার মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকার পাশাপাশি দেশটির সশস্ত্র বাহিনী, সেনাবাহিনী, রাজকীয় নৌবাহিনী ও রাজকীয় বিমানবাহিনীর পতাকা বহন করে আকাশপথে প্রদর্শনীতে অংশ নেয়।
পরে রাজা সুলতান ইব্রাহিম কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সম্মান রক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে রাজকীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ আনুষ্ঠানিকতায় সুঙ্গাই বুলোহ ক্যাম্পের রাজকীয় গোলন্দাজ রেজিমেন্টের সদস্যরাও অংশ নেন।
‘মালয়েশিয়া মাদানি: সবার জন্য সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজে ৭৬টি দলের মোট ১০ হাজার ৮১৯ জন সদস্য অংশ নেন। বিভিন্ন পরিবেশনায় যুক্ত ছিল ২২টি ব্রাস ব্যান্ড।
এ ছাড়া কুচকাওয়াজে সাজসজ্জায় সজ্জিত যানবাহন, স্থল, নৌ ও আকাশপথের বিভিন্ন সরকারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সরঞ্জাম, সেবায় ব্যবহৃত প্রাণী এবং বৈদ্যুতিক যানও প্রদর্শিত হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান দেখতে দাতারান পুত্রজায়ায় ৮০ হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত হন। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেকে ভোরের আগেই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক ও প্রবাসীদেরও অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দেখা যায়।
মালয়েশিয়ার জাতীয় দিবসের ঐতিহাসিক ভিত্তি ১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট। ওই দিন বর্তমান মালয়েশিয়ার পূর্বসূরি ফেডারেশন অব মালয়া ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। পরে ১৯৬৩ সালে মালয়েশিয়া রাষ্ট্র গঠিত হয়।
স্বাধীনতার স্মৃতি ধারণ করে প্রতিবছর ৩১ আগস্ট দেশটিতে ‘হারি মেরদেকা’ বা জাতীয় দিবস পালন করা হয়। মালয়েশীয়দের কাছে দিনটি স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
মন্তব্যসমূহ