ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬১৬, মর্গে জায়গা নেই মরদেহ রাখার

নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬১৬, মর্গে জায়গা নেই মরদেহ রাখার
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৭৮ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ৭৭৭ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া মরদেহগুলো নেপালের বিভিন্ন নদীর ভাটি অঞ্চলে উদ্ধার হচ্ছে। একের পর এক মরদেহ আসতে থাকায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোর মর্গে আর জায়গা থাকছে না। মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

সংগৃহীত ছবি

নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোট এলাকা থেকে ভেসে যাওয়া মরদেহ চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপরাসিসহ বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটি জেলার মর্গের ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

চিতওয়ানের ভরতপুরে একটি অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করছে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মরদেহ সংরক্ষণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ড্রাই আইস ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চিতওয়ানের ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী এলাকায় এখন পর্যন্ত ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যায় নিখোঁজদের স্বজনরা বিভিন্ন জেলা থেকে চিতওয়ানসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছুটে আসছেন। তারা উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে স্বজনদের খোঁজ করছেন।

সংগৃহীত ছবি

এদিকে পোখরার হাসপাতালগুলোর মর্গেও মরদেহের চাপ বেড়েছে। তানাহুন, গোর্খা, পূর্ব নাওয়ালপরাসি ও ধাদিং থেকে ৯৩টি মরদেহ সেখানে নেওয়া হয়েছে।

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে এখনো মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়া এলাকায় আকস্মিক ঢল নামে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ মিশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।

দুর্যোগপ্রবণ এই এলাকার কাছেই রয়েছে তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবর যাওয়ার পথ। ফলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

নেপালে ৬১৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি তিব্বতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। জরুরি সহায়তার জন্য ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আবেদন করেছে সংস্থাটি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগ : নেপাল বন্যা ভূমিধস তিব্বত

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬১৬, মর্গে জায়গা নেই মরদেহ রাখার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৭৮ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ৭৭৭ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া মরদেহগুলো নেপালের বিভিন্ন নদীর ভাটি অঞ্চলে উদ্ধার হচ্ছে। একের পর এক মরদেহ আসতে থাকায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোর মর্গে আর জায়গা থাকছে না। মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

সংগৃহীত ছবি

নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোট এলাকা থেকে ভেসে যাওয়া মরদেহ চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপরাসিসহ বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটি জেলার মর্গের ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

চিতওয়ানের ভরতপুরে একটি অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করছে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মরদেহ সংরক্ষণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ড্রাই আইস ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চিতওয়ানের ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী এলাকায় এখন পর্যন্ত ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যায় নিখোঁজদের স্বজনরা বিভিন্ন জেলা থেকে চিতওয়ানসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছুটে আসছেন। তারা উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে স্বজনদের খোঁজ করছেন।

সংগৃহীত ছবি

এদিকে পোখরার হাসপাতালগুলোর মর্গেও মরদেহের চাপ বেড়েছে। তানাহুন, গোর্খা, পূর্ব নাওয়ালপরাসি ও ধাদিং থেকে ৯৩টি মরদেহ সেখানে নেওয়া হয়েছে।

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে এখনো মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়া এলাকায় আকস্মিক ঢল নামে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ মিশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।

দুর্যোগপ্রবণ এই এলাকার কাছেই রয়েছে তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবর যাওয়ার পথ। ফলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

নেপালে ৬১৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি তিব্বতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। জরুরি সহায়তার জন্য ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আবেদন করেছে সংস্থাটি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ