ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সালাহউদ্দিন আহমদের গুম মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার

সালাহউদ্দিন আহমদের গুম মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, তদন্তে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনার সঙ্গে জিয়াউল আহসানের প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

গত ১৯ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের অভিযোগ করেন। অভিযোগে জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় তিনি বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পরিবার তখন অভিযোগ করেছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিয়ে গেছে।

পরে ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাকে শিলং এলাকায় পাওয়া যায় এবং পরে সেখানে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলেছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত সরকার সালাহউদ্দিন আহমদকে দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস দেয়। এরপর একই বছরের ১১ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ট্যাগ : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সালাহউদ্দিন আহমদ জিয়াউল আহসান

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


সালাহউদ্দিন আহমদের গুম মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, তদন্তে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনার সঙ্গে জিয়াউল আহসানের প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

গত ১৯ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের অভিযোগ করেন। অভিযোগে জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় তিনি বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পরিবার তখন অভিযোগ করেছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিয়ে গেছে।

পরে ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাকে শিলং এলাকায় পাওয়া যায় এবং পরে সেখানে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলেছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত সরকার সালাহউদ্দিন আহমদকে দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস দেয়। এরপর একই বছরের ১১ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ