ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২৭০

নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২৭০
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ২৭০ জন এবং তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুই অঞ্চলে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কিছু হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া, নুওয়াকোটসহ কয়েকটি পাহাড়ি এলাকা এবং সীমান্তের ওপারে তিব্বতের গ্যিরং অঞ্চল। হিমালয়ের উঁচু এলাকা থেকে বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত নেমে এসে বহু বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়েছে।

নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখনো ৮২৬ জন নিখোঁজ। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক বিদেশি নাগরিক। সর্বশেষ হিসাবে নিখোঁজদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয় এবং ৬০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ আরও বহু দেশের নাগরিকও নিখোঁজ তালিকায় আছেন। তাদের অনেকেই কৈলাশ মানস সরোবরের পথে থাকা পর্যটক ও পুণ্যার্থী।

তিব্বতের গ্যিরং কাউন্টিতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮ বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। সেখানে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে নেপাল ও তিব্বতের নিখোঁজের তালিকায় একই ব্যক্তির নাম দুইবার আছে কি না, তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এ কারণে বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত মোট নিখোঁজের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

দুর্যোগের কারণ সম্পর্কে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথমে ঘটনাটিকে ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হলেও পরে বোঝা যায়, হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড কম্পনই ভূকম্পন সংকেত তৈরি করেছিল। বরফ ও পাথরের সেই ধস নদীতে পড়ে দ্রুতগতির পানির ঢল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত সৃষ্টি করে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে বহু সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, কাদা, ভাঙা সড়ক এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো অনেক এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গতদের উদ্ধার ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ গ্যিরংয়ের উজানে একটি আটকে থাকা হ্রদ নিয়েও সতর্ক রয়েছে। সেটি ভেঙে গেলে নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার দুর্যোগ ঠেকাতে ওই এলাকার পানি ও ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে দুর্গত নেপালের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা এবং একজন দুর্যোগ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ভারত ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক রেডক্রসও চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা পাঠাচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : নেপাল বন্যা তিব্বত

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২৭০

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ২৭০ জন এবং তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুই অঞ্চলে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কিছু হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া, নুওয়াকোটসহ কয়েকটি পাহাড়ি এলাকা এবং সীমান্তের ওপারে তিব্বতের গ্যিরং অঞ্চল। হিমালয়ের উঁচু এলাকা থেকে বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত নেমে এসে বহু বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়েছে।

নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখনো ৮২৬ জন নিখোঁজ। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক বিদেশি নাগরিক। সর্বশেষ হিসাবে নিখোঁজদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয় এবং ৬০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ আরও বহু দেশের নাগরিকও নিখোঁজ তালিকায় আছেন। তাদের অনেকেই কৈলাশ মানস সরোবরের পথে থাকা পর্যটক ও পুণ্যার্থী।

তিব্বতের গ্যিরং কাউন্টিতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮ বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। সেখানে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে নেপাল ও তিব্বতের নিখোঁজের তালিকায় একই ব্যক্তির নাম দুইবার আছে কি না, তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এ কারণে বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত মোট নিখোঁজের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

দুর্যোগের কারণ সম্পর্কে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথমে ঘটনাটিকে ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হলেও পরে বোঝা যায়, হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড কম্পনই ভূকম্পন সংকেত তৈরি করেছিল। বরফ ও পাথরের সেই ধস নদীতে পড়ে দ্রুতগতির পানির ঢল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত সৃষ্টি করে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে বহু সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, কাদা, ভাঙা সড়ক এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো অনেক এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গতদের উদ্ধার ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ গ্যিরংয়ের উজানে একটি আটকে থাকা হ্রদ নিয়েও সতর্ক রয়েছে। সেটি ভেঙে গেলে নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার দুর্যোগ ঠেকাতে ওই এলাকার পানি ও ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে দুর্গত নেপালের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা এবং একজন দুর্যোগ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ভারত ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক রেডক্রসও চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা পাঠাচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ