ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রাথমিক শিক্ষার পাঁচ ক্ষেত্রে সংস্কারেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন: প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষার পাঁচ ক্ষেত্রে সংস্কারেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন: প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিত সংস্কার ও উন্নয়ন করা গেলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে শুধু একটি বিষয়ে পরিবর্তন আনলে হবে না। সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক তৈরি, কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার—সবগুলো বিষয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের মিড-ডে মিল কর্মসূচির একটি পাইলট প্রকল্প শিগগির শুরু করা হবে। এ উদ্যোগে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের সম্পৃক্ত করে রান্না ও সরবরাহের বিভিন্ন মডেল পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, তবে প্রতিটি শিশুর কাছে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার সময়মতো পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে মায়েদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদারস কমিটির নজরদারির কারণে অনিয়ম ও অভিযোগ অনেকটাই কমেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। খাবারের মান, স্বাদ, গন্ধ কিংবা সরবরাহে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে খাবার গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত শিক্ষা পায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কারণে যাতে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা দেওয়ার বিষয়টিও নতুন নীতিমালায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষক সংকট সমাধানে শূন্য পদে নিয়োগ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থানান্তরের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে সরকারি পর্যায়ে তা প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ এবং ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ট্যাগ : প্রাথমিক শিক্ষা ববি হাজ্জাজ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


প্রাথমিক শিক্ষার পাঁচ ক্ষেত্রে সংস্কারেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিত সংস্কার ও উন্নয়ন করা গেলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে শুধু একটি বিষয়ে পরিবর্তন আনলে হবে না। সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক তৈরি, কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার—সবগুলো বিষয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের মিড-ডে মিল কর্মসূচির একটি পাইলট প্রকল্প শিগগির শুরু করা হবে। এ উদ্যোগে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের সম্পৃক্ত করে রান্না ও সরবরাহের বিভিন্ন মডেল পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, তবে প্রতিটি শিশুর কাছে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার সময়মতো পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে মায়েদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদারস কমিটির নজরদারির কারণে অনিয়ম ও অভিযোগ অনেকটাই কমেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। খাবারের মান, স্বাদ, গন্ধ কিংবা সরবরাহে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে খাবার গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত শিক্ষা পায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কারণে যাতে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা দেওয়ার বিষয়টিও নতুন নীতিমালায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষক সংকট সমাধানে শূন্য পদে নিয়োগ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থানান্তরের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে সরকারি পর্যায়ে তা প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ এবং ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ