যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইরান ও ওমান। দুই দেশ প্রণালিতে একটি যৌথ সাময়িক নৌ চলাচল পথ তৈরির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান ও ওমান মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করে। আলোচনায় একটি ‘যৌথ সাময়িক নৌ চলাচল পথ’ তৈরির পাশাপাশি প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পরিকল্পনা নিয়েও কথা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায়। সংঘাতের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি এক সপ্তাহান্তে মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করে, যেখানে আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩১।
তবে হরমুজের মাইন অপসারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-ওমানের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব মাইন ইতোমধ্যে অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌযান মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে তা ধ্বংস করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এর বিপরীতে ইরান ও ওমানের সাম্প্রতিক আলোচনায় প্রণালি থেকে মাইন সরানোর পরিকল্পনা এখনো আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে। ফলে হরমুজ পুরোপুরি মাইনমুক্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান রয়েছে।
পরিস্থিতির ঝুঁকিও পুরোপুরি কাটেনি। মঙ্গলবার ওমানের আশ শিসাহ এলাকা থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের ক্ষমতা হারায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে কমিয়ে আনা কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।
হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমানের নতুন আলোচনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাড়তে পারে এমন আশায় বুধবার ব্রেন্ট ও মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
তবে সাময়িক নৌপথ নিয়ে সমঝোতা হলেই হরমুজ পুরোপুরি খুলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিরোধের সমাধানসহ তেহরানের কিছু শর্ত পূরণ না হলে শুধু ওমানের সঙ্গে সমঝোতা প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে না।
ফলে ইরান-ওমানের নতুন আলোচনা হরমুজ সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও বড় কূটনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ