ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। তিনি নতুন এই পদক্ষেপকে সামরিক অভিযানের ব্যর্থতা আড়াল করার ‘মরিয়া লোকদেখানো চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। নতুন পদক্ষেপে ইরানসংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক বার্তায় কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি দাবি করেন, নতুন অর্থনৈতিক চাপ মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা।
মারফি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধে জিতছে। ট্রাম্প হারছেন। আর এর বিশাল মূল্য দিচ্ছেন আমেরিকানরা।’ তিনি আরও দাবি করেন, সামরিক অভিযান প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায় এখন অর্থনৈতিক চাপকে সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্র এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলের সমালোচনা করে আসছেন মারফি। গত জুলাইয়ে মার্কিন সিনেটে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধের আগে ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করত না, কিন্তু সংঘাতের পর গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রসঙ্গেও তিনি মার্কিন প্রশাসনের দাবির সঙ্গে প্রকাশ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পার্থক্য তুলে ধরেছেন। মারফির বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার মধ্যে ৩০টিতে এখনো কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে ৩০টির তথ্যটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া চূড়ান্ত সরকারি হিসাব নয়, বরং প্রকাশিত গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে মারফির উল্লেখ করা তথ্য।
মারফির মতে, ইরানের ওপর ইতোমধ্যেই ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা তেহরানের অবস্থান কতটা পরিবর্তন করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের তেল, জাহাজ চলাচল, ব্যাংকিং ও অস্ত্রসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে নতুন অভিযান চালানো হচ্ছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের বৈশ্বিক আর্থিক সংযোগ ও রাজস্বের উৎসগুলোতে চাপ আরও বাড়ানো।
ফলে ‘ইরান যুদ্ধে জিতে গেছে’ এটি প্রতিষ্ঠিত নিরপেক্ষ তথ্য নয়, বরং সিনেটর ক্রিস মারফির রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্যায়ন। ট্রাম্প প্রশাসন বরং দাবি করে আসছে, সামরিক অভিযানে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ