ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩ প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব বাংলাদেশের

ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩ প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিনটি প্রকল্প কাজ শেষ না করেই বাতিলের প্রস্তাব করেছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। এরই মধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

প্রকল্পগুলো হলো ‘আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর স্থাপন’, ‘যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১ (নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন)’ এবং ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’। এর মধ্যে আশুগঞ্জ ও মোংলা বন্দর প্রকল্পে ভারতীয় ঋণ সহায়তা বা এলওসি যুক্ত ছিল। যমুনা নদীর প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায়।

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া জানিয়েছেন, ভারত নির্ধারিত সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় না করায় প্রকল্পগুলো দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে এবং ব্যয় বাড়ছে। এসব বিবেচনায় প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পরিবহণের সুবিধা বাড়াতে আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শুরু হয়। প্রথমে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে ১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ থাকার কথা ছিল প্রায় ৭৩৩ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৭৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আশুগঞ্জে প্রায় ৩২ একর জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজও করা হয়েছে। কিন্তু ভারত প্রকল্পটি এলওসির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অসমাপ্ত অবস্থাতেই প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একইভাবে বিশ্বব্যাংকের ঋণে ৬২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে যমুনা নদীর নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত নৌপথে বয়াবাতি স্থাপন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নৌযান কেনাসহ বিভিন্ন কাজ করার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান সুবিধাতেই বাংলাদেশি নৌযান চলতে পারে এবং প্রকল্পটির বড় উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় নৌযানের চলাচল সহজ করা। প্রকল্প বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার পর বর্তমানে এর কাজ বন্ধ রয়েছে।

তৃতীয় প্রকল্পটি মোংলা বন্দর আধুনিকায়নসংক্রান্ত। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ভারত প্রায় ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মোংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের নৌ ও সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতের অন্য অঞ্চলে পরিবহণের সুবিধা বাড়ানো।

এ প্রকল্পে পরামর্শক খাতেই প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু ভারত সময়মতো ঋণের অর্থ ছাড় করেনি। একই সময়ে মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে চীনের বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ভারতীয় এলওসির প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তিন প্রকল্প মিলিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও সেগুলোর কাজ শেষ হচ্ছে না। ফলে প্রকল্প বাতিল হলে ইতোমধ্যে করা বিনিয়োগের কতটা কাজে লাগানো যাবে এবং অবকাঠামোগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ-ভারত ভারতীয় ঋণ আশুগঞ্জ নৌবন্দর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩ প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব বাংলাদেশের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিনটি প্রকল্প কাজ শেষ না করেই বাতিলের প্রস্তাব করেছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। এরই মধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

প্রকল্পগুলো হলো ‘আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর স্থাপন’, ‘যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১ (নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন)’ এবং ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’। এর মধ্যে আশুগঞ্জ ও মোংলা বন্দর প্রকল্পে ভারতীয় ঋণ সহায়তা বা এলওসি যুক্ত ছিল। যমুনা নদীর প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায়।

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া জানিয়েছেন, ভারত নির্ধারিত সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় না করায় প্রকল্পগুলো দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে এবং ব্যয় বাড়ছে। এসব বিবেচনায় প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পরিবহণের সুবিধা বাড়াতে আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শুরু হয়। প্রথমে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে ১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ থাকার কথা ছিল প্রায় ৭৩৩ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৭৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আশুগঞ্জে প্রায় ৩২ একর জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজও করা হয়েছে। কিন্তু ভারত প্রকল্পটি এলওসির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অসমাপ্ত অবস্থাতেই প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একইভাবে বিশ্বব্যাংকের ঋণে ৬২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে যমুনা নদীর নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত নৌপথে বয়াবাতি স্থাপন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নৌযান কেনাসহ বিভিন্ন কাজ করার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান সুবিধাতেই বাংলাদেশি নৌযান চলতে পারে এবং প্রকল্পটির বড় উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় নৌযানের চলাচল সহজ করা। প্রকল্প বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার পর বর্তমানে এর কাজ বন্ধ রয়েছে।

তৃতীয় প্রকল্পটি মোংলা বন্দর আধুনিকায়নসংক্রান্ত। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ভারত প্রায় ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মোংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের নৌ ও সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতের অন্য অঞ্চলে পরিবহণের সুবিধা বাড়ানো।

এ প্রকল্পে পরামর্শক খাতেই প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু ভারত সময়মতো ঋণের অর্থ ছাড় করেনি। একই সময়ে মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে চীনের বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ভারতীয় এলওসির প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তিন প্রকল্প মিলিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও সেগুলোর কাজ শেষ হচ্ছে না। ফলে প্রকল্প বাতিল হলে ইতোমধ্যে করা বিনিয়োগের কতটা কাজে লাগানো যাবে এবং অবকাঠামোগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ