আলোচিত ইসলামি বক্তা ও ‘৩১৩ প্রোপার্টিজ’-এর চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর বিরুদ্ধে যৌতুকের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার পঞ্চম স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাত ঢাকার আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলাটি করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৮ নম্বর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম মামলাটি আমলে নেন এবং মিসবাহর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম ইবরাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তার মক্কেল হুমায়রা জান্নাত যৌতুকের অভিযোগে মামলাটি করেছেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। পরবর্তী শুনানিতে মিসবাহ আদালতে হাজির হলে তার বক্তব্য জানা যাবে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী জানান, ওয়াজ মাহফিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিসবাহর বক্তব্যের মাধ্যমে হুমায়রা জান্নাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ফেসবুকে যোগাযোগের সূত্র ধরে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। একপর্যায়ে হুমায়রা জান্নাতকে যাত্রাবাড়ীতে মিসবাহর বাসায় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, বিয়ের আগে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে তারা বিয়ে করেন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে।
মামলার আবেদনে মিসবাহর একাধিক বিয়ের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হুমায়রা জান্নাত মিসবাহর পঞ্চম স্ত্রী। এরপর আরও চারটি বিয়ে করার অভিযোগ করা হয়েছে। এ হিসাবে তার মোট নয়টি বিয়ের তথ্য মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি আইনজীবীর। পাশাপাশি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগও মামলায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
আইনজীবীর অভিযোগ, মিসবাহ ইসলামি বক্তা হিসেবে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয়। তার বক্তব্যের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে, বিশেষ করে নারীদের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে নিজের পরিচিতি ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ছাড়া একাধিক বিয়ের সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলেও বাদীপক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, মিসবাহ বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা দিয়ে সম্মানী পান এবং বিভিন্ন এলাকায় তার যোগাযোগ রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ একাধিক বিয়ে ও নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, হুমায়রা জান্নাতের সঙ্গে কাবিন ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই বিয়ে হয়েছিল। তাদের সন্তান রয়েছে বলেও আইনজীবী জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে মামলায় আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আদালতে তিনি হাজির হলে তার বক্তব্য জানা যেতে পারে।
মন্তব্যসমূহ