বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলারসহ সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দিয়েছে ফিফা। তবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে না আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। শাস্তির বিরুদ্ধে ফিফার আপিল কমিটিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর তদন্ত শেষে শাস্তির ঘোষণা দেয় ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিশন। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, নাহুয়েল মোলিনাকে সাত ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনের গাভিকেও এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
শাস্তির পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। পারেদেস ও মোলিনাকে ৯০ হাজার মার্কিন ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে। বাকি তিনজনের প্রত্যেককে ৩০ হাজার ডলার করে জরিমানা দিতে হবে।
তবে ফিফার তদন্ত শুধু ফাইনালের পরের সংঘর্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুরো টুর্নামেন্টে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, ম্যাচ শুরুতে বিলম্ব, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, মাঠে বস্তু নিক্ষেপ এবং অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শনের মতো বিভিন্ন অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর ‘মালভিনাস আর্জেন্টাইনস’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনসহ বিভিন্ন আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে এএফএকে প্রায় আড়াই লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচে স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শক প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরিমানার অর্থের মধ্যে ১ লাখ মার্কিন ডলার বৈষম্যবিরোধী একটি কর্মসূচিতে ব্যয় করার নির্দেশও দিয়েছে ফিফা।
ফিফার সিদ্ধান্তের পর এক বিবৃতিতে এএফএ জানিয়েছে, সংস্থা ও খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষায় তারা সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত কারণ জানতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। এরপর ফিফার আপিল কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
এএফএ আরও জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সালিশি আদালত বা স্পোর্টস আরবিট্রেশন কোর্ট ফর স্পোর্টে (CAS) যাওয়ার সুযোগও তারা বিবেচনায় রাখছে।
মন্তব্যসমূহ