প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজন সদস্য যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র।
নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে যাওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। সম্ভাব্য রদবদলের তালিকায় বিমান, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্থানীয় সরকার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রয়েছে।
এদিকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০-এর বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত সময়ে দরবার হলে প্রবেশ করবেন। এরপর জাতীয় সংগীত ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন।
এর আগে গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।
৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩টি বৈধ ভোট পড়ে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দীন ফলাফল ঘোষণা করেন। পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থী থাকায় এবার আবারও সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
মন্তব্যসমূহ