পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগার থেকে মুক্তি পেলে দেশটির সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে নতুন করে বিরোধে জড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্কের পর তার এই বক্তব্যকে পিটিআই ও পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুখারি বলেন, ইমরান খান মুক্তি পেলে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যা পাকিস্তানের ক্ষতি করতে পারে। দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগত কষ্ট ও ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুখারি বলেন, এর অর্থ এই নয় যে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধে জড়াতেই হবে। দেশের ভালোর জন্য অনেক সময় নিজের কষ্ট ও যন্ত্রণা দমন করতে হয়।
পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ইমরান খান ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত তিক্ত। বিশেষ করে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ঘিরে ইমরান ও তার সমর্থকদের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছিল।
২০১৮ সালে ইমরান খানের পিটিআই ক্ষমতায় আসার সময় তার পেছনে সামরিক বাহিনীর প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর ইমরান তার সরকারের পতনের পেছনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা থাকার অভিযোগ করেন।
২০২৩ সালে ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার সমর্থকদের বিক্ষোভের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং একজন কোর কমান্ডারের বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সামরিক বাহিনী ওই ঘটনাকে পাকিস্তানের ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করে। এরপর পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয় এবং দলের বহু নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হন।
এমন তিক্ততার মধ্যেই ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে পিটিআইয়ের অন্যতম স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারাগার থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। বুখারি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘নতুন আশার আলো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের বাইরে পিটিআই নেতা-কর্মীদের জমায়েত না করার বিষয়ে আদালতের নির্দেশও মেনে চলার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়নি। তবে তার চিকিৎসার বিষয়ে আদালতের নির্দেশ এবং একই সময়ে সামরিক নেতৃত্বকে নিয়ে পিটিআইয়ের তুলনামূলক নরম বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন নজর থাকবে ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায় এবং পিটিআই ও সামরিক নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের সংঘাত সত্যিই সংলাপ বা সমঝোতার দিকে এগোয় কি না।
মন্তব্যসমূহ