ইমরানের কারাবাস ও চিকিৎসা নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ‘বিভ্রান্তিকর’: পাকিস্তান
পাকিস্তানের কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কারাবাসের পরিস্থিতি ও চিকিৎসা নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘ভুয়া প্রচারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সরকার।রোববার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে শনিবার পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইমরান খানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, নির্যাতন করা কিংবা যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে।মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইমরান আদালতের রায়ের ভিত্তিতে কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাকে বাড়তি শাস্তি হিসেবে একাকী বন্দি রাখা বা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগের সঙ্গে সরকারি নথির মিল নেই। [BANGVIEWS-POST:4744]সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানকে দর্শনার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, টেলিফোনে যোগাযোগ, পড়ার উপকরণ, টেলিভিশন দেখার সুযোগ, বাড়িতে রান্না করা খাবার ও শরীরচর্চার সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। তাকে সাত কক্ষবিশিষ্ট একটি আলাদা কমপাউন্ডে রাখা হয়েছে, যেখানে ঘুম, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যায়ামের ব্যবস্থা রয়েছে।ইমরান পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছেন এমন অভিযোগও নাকচ করেছে সরকার। কারাগারের নথির বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তার সঙ্গে প্রায় ১৯৮টি সাক্ষাৎ-পর্বে ৯০০-এর বেশি দর্শনার্থীর প্রবেশের তথ্য রয়েছে। এসব সাক্ষাতের মধ্যে তার বোন, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল। স্ত্রীকে প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাতের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ৪ আগস্ট তার স্ত্রী সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। ইমরানের পরিবারের সঙ্গে টেলিফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২১ মার্চ তার এক ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার তথ্য এবং ১৮, ১৯ ও ২৫ আগস্ট তার বোনদের সঙ্গে সাক্ষাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সংগৃহীত ছবিইমরানকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার। মন্ত্রণালয়ের দাবি, কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তার প্রায় ৩০টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় পিমস, শিফা ইন্টারন্যাশনাল, শওকত খানম ও আল-শিফা ট্রাস্ট আই হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও যুক্ত ছিলেন।চোখের রেটিনাসংক্রান্ত সমস্যার জন্য ইমরানকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে পাঁচটি অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনজেকশন, রেটিনার পরীক্ষা, ওষুধ ও পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল। জুলাই এবং ২১ আগস্টের চিকিৎসা মূল্যায়নে তাকে ‘সচেতন ও স্থিতিশীল’ অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে সরকারের দাবি। সরকার আরও জানিয়েছে, ইমরানের বোন ড. উজমা নিয়াজি সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থাকে ‘১০০ শতাংশ সুস্থ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার রক্তচাপ ১২০/৮০ ছিল এবং চোখের সমস্যাও প্রায় পুরোপুরি সেরে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে।তবে ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে বিতর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে শুরু হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে ২১ আগস্ট তাকে পিমসে পরীক্ষা করিয়ে আবার আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়। [BANGVIEWS-POST:4743]এদিকে ইমরানের ছেলে ও রাজনৈতিক সহযোগীদের পক্ষ থেকে তার স্বাস্থ্য ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়করাও তার যথাযথ চিকিৎসার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে সরকারিভাবে দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি ইমরানের পরিবার ও রাজনৈতিক পক্ষের অভিযোগ নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইমরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত না করে চিকিৎসা নথি ও আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। বিদেশি গণমাধ্যমকে যাচাই করা কারাগার ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য করার আহ্বানও জানিয়েছে তারা। তথ্যসূত্র: জিও নিউজ