যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। দলীয় চাপ, জনসমর্থনে পতন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও দুই বছরের কম সময়ের মধ্যেই স্টারমারের নেতৃত্ব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। অর্থনীতি, অভিবাসন, জ্বালানি নীতি এবং সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির খারাপ ফল দলীয় চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার এমপিদের বড় অংশের চাপ এবং অ্যান্ডি বার্নহামের পার্লামেন্টে ফেরার পর স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষমতা হস্তান্তর যেন সুশৃঙ্খলভাবে হয়, সে জন্য তিনি উত্তরসূরিকে সহযোগিতা করবেন।
স্টারমারের বিদায়ের পর এখন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেই দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি আবার পার্লামেন্টে ফিরেছেন। রিফর্ম ইউকের উত্থানের মুখে বার্নহামের এই জয় তাকে দলের ভেতরে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ছিল। তার সরকার বড় কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি বলে সমালোচনা হচ্ছিল। নীতি পরিবর্তন, দলীয় বিভক্তি এবং বিতর্কিত নিয়োগ নিয়েও তার ওপর চাপ তৈরি হয়।
নতুন প্রধানমন্ত্রী যিনিই হন, তার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকবে। স্থবির অর্থনীতি, অভিবাসন ইস্যু, জ্বালানি সংকট এবং রিফর্ম ইউকের রাজনৈতিক উত্থান সামলাতে হবে তাকে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও হবে নতুন নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্যসমূহ