আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন জোট পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকেও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন পাননি তিনি।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট ৪৯ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অথচ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। বর্তমানে তার জোটের হাতে রয়েছে ৬৮টি আসন। বিপরীতে বিরোধী শিবির ৬৭ থেকে ৭০টি আসন পেতে পারে। সাবেক আইডিএফ প্রধান গাদি আইজেনকোটও বেশিরভাগ জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
তবে নির্বাচনে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার সুযোগ রয়েছে নেতানিয়াহুর। বিরোধীরা যদি সরকার গঠনের মতো সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরও কয়েক মাস দায়িত্বে থাকতে পারেন তিনি।
এর মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে দূরত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের একটি অংশ ধারণা করেছিল, তিনি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে পারেন। এমনকি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির বিচার বন্ধে সাধারণ ক্ষমার পক্ষেও কথা বলেছিলেন ট্রাম্প।
তবে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই নেতার পররাষ্ট্রনীতি ও রাজনৈতিক স্বার্থে পার্থক্য স্পষ্ট হতে থাকে। বিশেষ করে ইরান, গাজা ও লেবানন ইস্যুতে তাদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক ভালো থাকলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নেতানিয়াহুকে নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় ট্রাম্প তাকে নিজের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবেও উল্লেখ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গাজা নিয়ে ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করার পর দুই পক্ষের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে পরে ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় পরিকল্পনাটিকে সুযোগ দেওয়ার কথা জানান নেতানিয়াহু। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে গাজায় সামরিক অভিযান সীমিত রাখতেও তিনি সম্মত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের শিবিরও ট্রাম্পের অবস্থানের দিকে নজর রাখছে। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে পারেন। এ কারণে বিভিন্ন মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইসরায়েলের নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার বার্তা পাঠানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে অন্তত চারবার ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তিনি নেতানিয়াহুকে নির্বাচনে সমর্থন করছেন কি না। প্রতিবারই সরাসরি সমর্থন ঘোষণা করা থেকে বিরত থেকেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও নেতানিয়াহুকে তিনি একজন সফল যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
ইসরায়েলের নির্বাচনকে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়া নীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা শান্তি পরিকল্পনা, ইসরায়েল-লেবানন সম্পর্ক, সিরিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সমঝোতা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
এ কারণে ২০১৯ সালের মতো দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চাইছে হোয়াইট হাউজ। সে সময় সরকার গঠন নিয়ে সংকটের কারণে ইসরায়েলে পরপর একাধিক নির্বাচন হয়েছিল। এবারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কূটনৈতিক পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
মন্তব্যসমূহ