রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিজানুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের জামাতা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথ মঙ্গলবার মিজানুর রহমানকে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার প্রাথমিক তদন্তে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং তদন্ত এখনো চলমান। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে তাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।
মিজানুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী শওকত হোসাইন তার জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির জন্য বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিন নির্ধারণ করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্পে প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় তারা গুলি ছোড়ার পাশাপাশি দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ভাঙচুর ও হামলা চালায়।
হামলায় প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যাবল, ক্যামেরা ও বিভিন্ন পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জাম নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিউগিনি প্রোপার্টিজের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে মামলার তথ্য থেকে জানা যায়।
মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিবি গুলশান বিভাগ জানিয়েছে, নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।
মন্তব্যসমূহ