মুদ্রার দরপতন, ভিসা জটিলতা এবং অভিবাসননীতির কঠোরতার কারণে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন এখন অনেকের জন্যই কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে।
ঝাড়খন্ডের ২৯ বছর বয়সি কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রগতি প্রিয়া বহুদিনের পরিকল্পনার পর চলতি বছর রোমের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইউরোপে ভালো পেশাগত সুযোগের আশায় তিনি এই পদক্ষেপ নিলেও এখন অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, “দুশ্চিন্তায় আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমি এমন কোনো স্টুডেন্ট লোন নিতে চাই না, যা আমি কখনো শোধ করতে পারব না।”
ইউরো ও অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ভারতীয় রুপির ব্যাপক দরপতনের ফলে তার শিক্ষা ব্যয়ের ঋণের পরিমাণ একলাফে বেড়ে গেছে, যা তার মতো হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে।
২০২৫ সালে ১২ লাখের বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য গন্তব্যে ভিসা কঠোরতা এবং চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে ভর্তি প্রবণতা কমতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুপির অবমূল্যায়নের কারণে বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় ২০১৯ সাল থেকে ৩৫ থেকে ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা ও ‘গিগ ইকোনমি’র ওপর নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তি ইতিমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে এবং এই ধারা আরও অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা এখন তুলনামূলক সাশ্রয়ী গন্তব্য যেমন জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও ইতালির দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে টিউশন ফি কম এবং কাজের সুযোগ তুলনামূলক বেশি।
প্রগতি প্রিয়া জানান, যুক্তরাজ্যের তুলনায় ইতালিতে পড়াশোনার খরচ প্রায় অর্ধেক এবং সময়ও কম লাগে, যা তার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতের বৈশ্বিক প্রভাবের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
সূত্র: বিবিসি