নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে পাঁচটি মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মোট ৫৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে পাঁচ মাদ্রাসার পাসের হার শূন্য শতাংশ।
শূন্য পাসের কারণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। চকদেবীররাম চকভোলাই আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জালাল উদ্দিনের দাবি, পরীক্ষাকেন্দ্রে হঠাৎ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করায় শিক্ষার্থীরা ভীত ও অস্বস্তিতে পড়ে, যার প্রভাব পরীক্ষায় পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। তাদের বেশির ভাগ গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে অকৃতকার্য হয়েছে। রামনগর দাখিল মাদ্রাসার ১৩ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। তাদের অনেকেই আরবি সাহিত্যে ফেল করেছে।
চকদেবীররাম চকভোলাই আলিম মাদ্রাসার ১৫ জন, চকরঘুনাথ দাখিল মাদ্রাসার ১৩ জন এবং এলেঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার ছয়জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
এ ছাড়া এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ঘোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের দুইজন এবং জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পাঁচজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। সব মিলিয়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৬৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
এমন ফলাফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠদান ও একাডেমিক তদারকির ঘাটতি ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষার মান বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদ্রাসার গণিত শিক্ষক মো. এজাজ আলী অবশ্য শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকে ফল বিপর্যয়ের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য, অতিরিক্ত ক্লাস ও কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হলেও অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত উপস্থিত হয় না। অভিভাবক সমাবেশেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে চকদেবীররাম চকভোলাই আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন সিসিটিভির পাশাপাশি বাল্যবিয়ের কারণে ছাত্রীদের ঝরে পড়া এবং করোনাকালীন শিক্ষার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছেন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী জানিয়েছেন, পাঁচ মাদ্রাসায় শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে আগের বছরগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে। ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নজরদারিতে আনা হবে।
নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদৎ হোসেনও ফল বিপর্যয়ের পেছনে একাধিক কারণের কথা বলেছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের এসব বক্তব্য তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন। ফলাফলের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশ হয়নি।
মন্তব্যসমূহ