তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে উত্তরাঞ্চলে বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চল একটি সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বিআইএএম মিলনায়তনে আয়োজিত এক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি’ বা ‘প্রভাতী’ প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ‘স্থানীয় পর্যায়ে বন্যার আগাম সতর্কতা ও প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে বর্তমান সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, ষড়ঋতুর বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে। দেশের মানুষকে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। এসব দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অব্যাহত রেখেছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার ১৯টি উপজেলায় বর্তমানে ‘প্রভাতী’ প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মৌসুমি বন্যার আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে, যাতে বন্যার কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবিএম সফিকুল হায়দার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ