জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে কক্ষ ছাড়ার আগে ইরানের জন্য নির্ধারিত আসনে প্রয়াত ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির একটি ছবি রেখে যান তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় ইরানের জন্য নির্ধারিত ডেস্কে কাসেম সোলাইমানির ছবিটি দৃশ্যমান ছিল। ঘটনাটি ইরানি প্রতিনিধিদের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাসেম সোলাইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বৈদেশিক অভিযান পরিচালনাকারী কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই জেনারেল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আরও ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিরা সাধারণ পরিষদের কক্ষ ত্যাগ করেন। এ সময় কয়েকজন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে দুয়োধ্বনি দেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দেন।
ওয়াকআউটের ঘটনায় ইসরায়েলি গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বা নাটকীয় কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরে। ইসরায়েলি চ্যানেল ১৪ ঘটনাটিকে ‘ইসরায়েলের মুখে থুতু’ হিসেবে উল্লেখ করে।
কক্ষ ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের উদ্দেশে পরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যদি আরও কোনো নৈতিক কাপুরুষ থাকেন, যারা এখনো কক্ষে রয়েছেন, তাহলে দয়া করে তারাও চলে যান।’
ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সমালোচনাকারী কয়েকটি দেশ ও নেতার সমালোচনা করেন। ইরানকে কঠোরভাবে আক্রমণ করে দেশটির সরকারকে ‘হত্যাকারী একনায়কতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন তিনি। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা ঠেকাতেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও আক্রমণ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানির নির্বাচনের পর নিউইয়র্কে অনেক ইহুদি নিজেদের আর নিরাপদ মনে করছেন না বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। এরদোয়ান হামাসকে সমর্থন করেন—এমন অভিযোগ তুলে তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করেন। তাদের কয়েকজনের হাতে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিসংবলিত ব্যানার ছিল।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বিক্ষোভ থেকে শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবিন্ডার, ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসেও ছিলেন।
এদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। ট্রাম্প প্রশাসন তাকে ভিসা না দেওয়ায় তিনি নিউইয়র্কে যেতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আব্বাসের একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।
মন্তব্যসমূহ