তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেছেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, কৃষি উন্নয়ন এবং নদীভাঙন মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা সম্পর্কিত জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, চলমান গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে যৌথ নদী কমিশন কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকৃত হবে এবং কৃষি খাতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিস্তা নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলেও জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমানো এবং বর্ষায় নদীভাঙন ঠেকাতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ কাজে যুক্ত থাকবে।
পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।