ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ক্যানসার প্রতিরোধে প্রসাধনীর নিরাপদ প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে যা বেছে নিতে পারেন

ক্যানসার প্রতিরোধে প্রসাধনীর নিরাপদ প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে যা বেছে নিতে পারেন
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ত্বক সুন্দর ও সতেজ রাখতে আমরা কত কিছুই না করি। কিছুদিন পরপর ট্রেন্ডস হয়ে দাঁড়ায় নতুন প্রসাধনী। আর রূপ সচেতনেরা সেই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে দেন। যাঁরা ট্রেন্ড অনুসরণ করেন না, তাঁরাও ত্বক আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রতিদিন ব্যবহার করেন ফেসওয়াশ, স্ক্রাব, ময়শ্চারাইজার, ফরসা হওয়ার ক্রিম কিংবা নানাবিধ মেকআপ পণ্য। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, সাময়িক উজ্জ্বলতা এনে দেওয়া এই প্রসাধনীগুলো দীর্ঘ মেয়াদে ডেকে আনতে পারে ত্বকের ক্যানসারের মতো মারাত্মক ব্যাধি।

অনলাইনে বা বাজারে এমন অনেক প্রসাধনী রয়েছে, যাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে। এগুলো ত্বকের কোষের ডিএনএ পরিবর্তন করে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কোন কোন প্রসাধনী ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে জেনে নিন।

অল্প সময়ে ত্বকের রং ফরসা করার দাবিদার ক্রিমগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত পারদ, ক্যাডমিয়াম এবং হাইড্রো কুইনোন ব্যবহার করা হয়। এগুলো ত্বকের মেলানিন তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। মেলানিন না থাকলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বকের কোষে প্রভাব ফেলে, যা ত্বকের ক্যানসারের প্রধান কারণ।

সূর্যের আলো থেকে বাঁচতে আমরা যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করি, তার অনেকগুলোতেই অক্সিবেনজোন এবং অক্টিনোক্সেট নামক রাসায়নিক থাকে। এগুলো ত্বকে শোষিত হয়ে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল তৈরি করতে পারে, যা ত্বকের কোষের ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ত্বকের মরা কোষ ঝরানোর জন্য ব্যবহৃত বিশেষ কিছু স্ক্রাব এবং রাসায়নিক পিলিং প্রোডাক্টে সিনথেটিক প্রিজারভেটিভ হিসেবে প্যারাবেন ও ফরমালডিহাইড রিলিজার থাকে। এগুলো ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে সূর্যের আলোয় ত্বক দ্রুত পুড়ে যায় এবং ক্যানসারের কোষ গঠনের আশঙ্কা তৈরি করে।

প্রসাধনীতে সুগন্ধ ছড়ানোর জন্য ব্যবহৃত কেমিক্যালে প্রায়ই থ্যালাটেস থাকে। এটি ত্বকের মাধ্যমে রক্তে মিশে হরমোনের ক্ষতি করার পাশাপাশি ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জি ও প্রদাহ তৈরি করে, যা পরে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ত্বকের সুরক্ষায় বাজারচলতি ক্ষতিকর প্রসাধনী ব্যবহার বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপাদান বেছে নেওয়া সম্ভব।

ত্বকের রং ফরসা করতে পারদ ও হাইড্রো কুইনোনযুক্ত ক্রিমের পরিবর্তে কাঁচা হলুদ, চন্দন গুঁড়া ও টক দইয়ের প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো কোনো ক্ষতি ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের দাগছোপ দূর করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সানস্ক্রিন কেনার আগে কৌটার গায়ে এর উপাদানগুলো দেখে নিন। অক্সিবেনজোনের পরিবর্তে জিংক অক্সাইডযুক্ত ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন কিনুন। এগুলো ত্বকের ভেতরে না ঢুকে উপরিভাগে একটি নিরাপদ স্তর তৈরি করে সূর্যরশ্মি প্রবেশে বাধা দেয়। বাজারচলতি স্ক্রাব ব্যবহার না করে চাল বা ওটসের গুঁড়া, কফি ও মধুর মিশ্রণ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন। মরা চামড়া দূর করতে এই ঘরোয়া স্ক্রাব অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ। টোনার ও ময়শ্চারাইজার হিসেবে গোলাপজল, নারকেল তেল ও আমন্ড অয়েল ব্যবহার করুন।

যেকোনো প্রসাধনী কেনার সময় উপাদানের লেবেলে প্যারাবেন ফ্রি, সালফেট ফ্রি, মার্কারি ফ্রি লেখা আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিন। বাংলাদেশে যেকোনো প্রসাধনী কেনার আগে সেটি বিএসটিআই অনুমোদিত এবং আসল কি না, তা যাচাই করুন। নতুন কোনো প্রসাধনী মুখে ব্যবহারের আগে তা হাতের ত্বকে লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। কোনো চুলকানি বা লালচে ভাব হলে সেটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

সূত্র: অঙ্কো ডেইলি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ও অন্যান্য

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ক্যানসার প্রতিরোধে প্রসাধনীর নিরাপদ প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে যা বেছে নিতে পারেন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ত্বক সুন্দর ও সতেজ রাখতে আমরা কত কিছুই না করি। কিছুদিন পরপর ট্রেন্ডস হয়ে দাঁড়ায় নতুন প্রসাধনী। আর রূপ সচেতনেরা সেই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে দেন। যাঁরা ট্রেন্ড অনুসরণ করেন না, তাঁরাও ত্বক আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রতিদিন ব্যবহার করেন ফেসওয়াশ, স্ক্রাব, ময়শ্চারাইজার, ফরসা হওয়ার ক্রিম কিংবা নানাবিধ মেকআপ পণ্য। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, সাময়িক উজ্জ্বলতা এনে দেওয়া এই প্রসাধনীগুলো দীর্ঘ মেয়াদে ডেকে আনতে পারে ত্বকের ক্যানসারের মতো মারাত্মক ব্যাধি।

অনলাইনে বা বাজারে এমন অনেক প্রসাধনী রয়েছে, যাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে। এগুলো ত্বকের কোষের ডিএনএ পরিবর্তন করে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কোন কোন প্রসাধনী ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে জেনে নিন।

অল্প সময়ে ত্বকের রং ফরসা করার দাবিদার ক্রিমগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত পারদ, ক্যাডমিয়াম এবং হাইড্রো কুইনোন ব্যবহার করা হয়। এগুলো ত্বকের মেলানিন তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। মেলানিন না থাকলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বকের কোষে প্রভাব ফেলে, যা ত্বকের ক্যানসারের প্রধান কারণ।

সূর্যের আলো থেকে বাঁচতে আমরা যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করি, তার অনেকগুলোতেই অক্সিবেনজোন এবং অক্টিনোক্সেট নামক রাসায়নিক থাকে। এগুলো ত্বকে শোষিত হয়ে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল তৈরি করতে পারে, যা ত্বকের কোষের ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ত্বকের মরা কোষ ঝরানোর জন্য ব্যবহৃত বিশেষ কিছু স্ক্রাব এবং রাসায়নিক পিলিং প্রোডাক্টে সিনথেটিক প্রিজারভেটিভ হিসেবে প্যারাবেন ও ফরমালডিহাইড রিলিজার থাকে। এগুলো ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে সূর্যের আলোয় ত্বক দ্রুত পুড়ে যায় এবং ক্যানসারের কোষ গঠনের আশঙ্কা তৈরি করে।

প্রসাধনীতে সুগন্ধ ছড়ানোর জন্য ব্যবহৃত কেমিক্যালে প্রায়ই থ্যালাটেস থাকে। এটি ত্বকের মাধ্যমে রক্তে মিশে হরমোনের ক্ষতি করার পাশাপাশি ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জি ও প্রদাহ তৈরি করে, যা পরে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ত্বকের সুরক্ষায় বাজারচলতি ক্ষতিকর প্রসাধনী ব্যবহার বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপাদান বেছে নেওয়া সম্ভব।

ত্বকের রং ফরসা করতে পারদ ও হাইড্রো কুইনোনযুক্ত ক্রিমের পরিবর্তে কাঁচা হলুদ, চন্দন গুঁড়া ও টক দইয়ের প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো কোনো ক্ষতি ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের দাগছোপ দূর করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সানস্ক্রিন কেনার আগে কৌটার গায়ে এর উপাদানগুলো দেখে নিন। অক্সিবেনজোনের পরিবর্তে জিংক অক্সাইডযুক্ত ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন কিনুন। এগুলো ত্বকের ভেতরে না ঢুকে উপরিভাগে একটি নিরাপদ স্তর তৈরি করে সূর্যরশ্মি প্রবেশে বাধা দেয়। বাজারচলতি স্ক্রাব ব্যবহার না করে চাল বা ওটসের গুঁড়া, কফি ও মধুর মিশ্রণ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন। মরা চামড়া দূর করতে এই ঘরোয়া স্ক্রাব অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ। টোনার ও ময়শ্চারাইজার হিসেবে গোলাপজল, নারকেল তেল ও আমন্ড অয়েল ব্যবহার করুন।

যেকোনো প্রসাধনী কেনার সময় উপাদানের লেবেলে প্যারাবেন ফ্রি, সালফেট ফ্রি, মার্কারি ফ্রি লেখা আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিন। বাংলাদেশে যেকোনো প্রসাধনী কেনার আগে সেটি বিএসটিআই অনুমোদিত এবং আসল কি না, তা যাচাই করুন। নতুন কোনো প্রসাধনী মুখে ব্যবহারের আগে তা হাতের ত্বকে লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। কোনো চুলকানি বা লালচে ভাব হলে সেটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

সূত্র: অঙ্কো ডেইলি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ও অন্যান্য


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ