আর মাত্র একটি গোল—বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সেই এক গোলের অপেক্ষায় থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্ব। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার হাতছোঁয়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
৩৮ বছর বয়সেও মেসির ধারাবাহিকতা চোখে পড়ার মতো। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। আজ গোল পেলে শুধু ক্লোসাকে টপকেই যাবেন না, বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিতেও নাম লেখাতে পারেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অস্ট্রিয়াও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য মেসিকে থামিয়ে দেওয়া। অস্ট্রিয়ার ফরোয়ার্ড মিখায়েল গ্রেগোরিচ মেসিকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি এখন পুরোপুরি বিশ্বাস করেন মেসিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার, যিনি খেলাটাকে বদলে দিয়েছেন এবং যাকে অনুকরণ করা সম্ভব নয়।
অস্ট্রিয়ার হেড কোচ রালফ রাংনিকও মেসিকে ‘অসাধারণ প্রতিভা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিজের ডিফেন্ডারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে চোট সমস্যা ভাবাচ্ছে অস্ট্রিয়াকে। মিডফিল্ডার ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার ছিটকে গেছেন এবং ডেভিড আলাবার খেলা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে চোয়াল ভাঙার পরও মাস্ক পরে মাঠে নামতে প্রস্তুত স্টেফান পশ।
আর্জেন্টিনা শিবিরেও চলছে শেষ মুহূর্তের কৌশল নির্ধারণ। স্কালোনির পরিকল্পনায় রয়েছে অস্ট্রিয়ার উচ্চচাপের (হাই-প্রেসিং) ফুটবল ভাঙার কৌশল। ফিটনেস সমস্যা কাটিয়ে গনসালো মন্তিয়েল অনুশীলনে ফিরলেও তাঁকে শুরুর একাদশে না রেখে নাউয়েল মোলিনাকে খেলানোর সম্ভাবনা বেশি।
আক্রমণভাগ নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন স্কালোনি। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকোলাস গনসালেস এবং লাউতারো মার্তিনেসের পরিবর্তে হুলিয়ান আলভারেসকে শুরুর একাদশে রাখার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।
ইতিহাসের পরিসংখ্যান অবশ্য আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে শেষ আট বিশ্বকাপ গ্রুপ ম্যাচে মাত্র একটিতে হেরেছে আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে ১৯৭৮ সালের পর থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারাতে পারেনি অস্ট্রিয়া।
ডালাসের উত্তপ্ত আবহাওয়ায় স্কালোনির পজেশন ফুটবল বনাম রাংনিকের প্রেসিং কৌশলের লড়াই যেমন জমবে, তেমনি ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করবে লিওনেল মেসির ইতিহাস গড়ার মুহূর্তের দিকে।