ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর কেএফএতে পুলিশের অভিযান

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর কেএফএতে পুলিশের অভিযান
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে সিউল পুলিশ। অভিযানে সংস্থাটির কার্যালয় থেকে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক প্রধান কোচ হং মিয়ং-বোকে নিয়োগের সময় দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি বা অনিয়মের অভিযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আর্থিক অপরাধ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও যুক্ত রয়েছেন।

৫৭ বছর বয়সী হং মিয়ং-বো চলতি বছরের জুনে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-০ গোলের পরাজয় দলটির বিদায়ে বড় ভূমিকা রাখে।

হংকে ২০২৪ সালে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই সেই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেএফএর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভ্যন্তরীণ নিয়ম উপেক্ষা করে কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনুচিতভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার দলকে দেশের গণমাধ্যম ‘সোনালি প্রজন্ম’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। দলে ছিলেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন, ডিফেন্ডার কিম মিন-জে এবং মিডফিল্ডার লি কাং-ইনের মতো তারকারা। ফলে দলটির কাছ থেকে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি।

জুলাইয়ের শেষ দিকে আইনপ্রণেতাদের একটি কমিটির সামনে হাজির হয়ে হং মিয়ং-বো দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নেন। তিনি স্বীকার করেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না আসায় তিনি হতাশ।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক বিবৃতিতে জাতীয় দলের ব্যর্থতার জন্য নেতৃত্ব পর্যায়ের দুর্বল নিয়োগ ব্যবস্থাকে দায়ী করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে আনুগত্য ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি দক্ষ নেতৃত্ব গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।

তদন্ত নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধে অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্তও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে হং মিয়ং-বোকে ‘হং আউট’ স্লোগানের মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমর্থকেরা করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক এক সংসদীয় শুনানিতে হংয়ের বার্ষিক বেতন ৩৮০ কোটি ওন (প্রায় ২৬ লাখ মার্কিন ডলার) বলে অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি এ তথ্যকে সঠিক নয় বলে দাবি করেন এবং নিজের প্রকৃত বেতনের পরিমাণ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।

ট্যাগ : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ দক্ষিন কোরিয়া

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর কেএফএতে পুলিশের অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে সিউল পুলিশ। অভিযানে সংস্থাটির কার্যালয় থেকে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক প্রধান কোচ হং মিয়ং-বোকে নিয়োগের সময় দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি বা অনিয়মের অভিযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আর্থিক অপরাধ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও যুক্ত রয়েছেন।

৫৭ বছর বয়সী হং মিয়ং-বো চলতি বছরের জুনে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-০ গোলের পরাজয় দলটির বিদায়ে বড় ভূমিকা রাখে।

হংকে ২০২৪ সালে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই সেই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেএফএর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভ্যন্তরীণ নিয়ম উপেক্ষা করে কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনুচিতভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার দলকে দেশের গণমাধ্যম ‘সোনালি প্রজন্ম’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। দলে ছিলেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন, ডিফেন্ডার কিম মিন-জে এবং মিডফিল্ডার লি কাং-ইনের মতো তারকারা। ফলে দলটির কাছ থেকে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি।

জুলাইয়ের শেষ দিকে আইনপ্রণেতাদের একটি কমিটির সামনে হাজির হয়ে হং মিয়ং-বো দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নেন। তিনি স্বীকার করেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না আসায় তিনি হতাশ।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক বিবৃতিতে জাতীয় দলের ব্যর্থতার জন্য নেতৃত্ব পর্যায়ের দুর্বল নিয়োগ ব্যবস্থাকে দায়ী করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে আনুগত্য ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি দক্ষ নেতৃত্ব গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।

তদন্ত নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধে অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্তও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে হং মিয়ং-বোকে ‘হং আউট’ স্লোগানের মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমর্থকেরা করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক এক সংসদীয় শুনানিতে হংয়ের বার্ষিক বেতন ৩৮০ কোটি ওন (প্রায় ২৬ লাখ মার্কিন ডলার) বলে অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি এ তথ্যকে সঠিক নয় বলে দাবি করেন এবং নিজের প্রকৃত বেতনের পরিমাণ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ