হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবিত সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে উপসাগরমুখী জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত করার বিষয়ে দ্রুত একটি সমঝোতা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইরানের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মত নন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় উপসাগরমুখী জাহাজের চলাচল ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বিপরীতমুখী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য ফি নির্ধারণের মতো কয়েকটি বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান কার্গোর মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ওমান এ হার ৩ শতাংশে সীমিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, এ ধরনের কোনো বাধ্যতামূলক ফি আরোপ না করা।
এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থাপনা ইরানের জলসীমা ব্যবহার করে পরিচালনার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে মৌলিক সমঝোতা হয়েছে। তার ভাষ্য, এ সংক্রান্ত চুক্তি এখন চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
সূত্র : এএফপি