প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে জাপান সাগরের দিকে একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএস) জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি পূর্ব সাগরের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা জাপান সাগর নামেও পরিচিত।
ক্ষেপণাস্ত্রটির ধরন ও সক্ষমতা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বিশ্লেষণ করছে বলে জানিয়েছে জেসিএস। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় নজরদারি ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানও অব্যাহত রয়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় একটি বস্তু উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে সেটির কারণে জাপানের উপকূলীয় এলাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রভাব পড়েনি।
এর আগে চলতি সপ্তাহে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। জাপানের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নেও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে জাপানের সামরিক নীতির সমালোচনা করে বলেন, টোকিওর পদক্ষেপের জবাবে পিয়ংইয়ং আরও সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চলতি মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বরাবরের মতো উত্তর কোরিয়া এ ধরনের মহড়াকে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের উসকানির জবাব দিতে তাদের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: এএফপি